<p align="justify">আকুপাংচার হলো শরীরের কিছু কিছু নির্দিষ্ট বিন্দুতে সরু সুচ ঢুকিয়ে রোগ চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি মূলত একটি চিনা চিকিৎসা পদ্ধতি<strong>, </strong>যা প্রায় ২০০০ বছরের বেশি সময় ধরে চিন দেশে একটি চিকিৎসা কৌশল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ল্যাটিন শব্দ ‘আকুস’ মানে সুচ<strong>, ‘</strong>পাংচার’ মানে ফোটানো। এই দুটি শব্দের মিলনেই আকুপাংচার শব্দটি তৈরি হয়। অর্থাৎ সুচ ফুটিয়েই আকুপাংচার করা হয়। সুচ ফুটিয়ে করা হয় বলে অনেকের ধারণা আকুপাংচার খুব যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। আকুপাংচারের সুচ এতটাই সরু ফোটাবার সময় মোটেই যন্ত্রণা হয় না।</p> <h3 align="justify">কী ভাবে চিকিৎসা করা হয়?</h3> <p align="justify">আকুপাংচারবিদ্যা মতে মানব শরীরের বারোটি চ্যানেল আছে। এই চ্যানেলগুলির উপরেই রয়েছে আকুপাংচার পয়েন্টগুলি। চিকিৎসার সময় কিছু ‘ডিস্টার্বড পয়েন্ট’ ও কিছু ‘লোকাল পয়েন্ট’<strong>-</strong>এর উপর সুচ ফোটানো হয়। আকুপাংচার করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে তাই ব্যথা কমে যায় বলে ধারণা করা হয়। আকুপাংচারবিদ্যার প্রাচীন শাস্ত্রে অবশ্য অন্য ব্যাখ্যা রয়েছে। সেখানে বলা হয় শরীরে ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ দু’রকম শক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব হলেই ব্যাধির সৃষ্টি হয়। আকুপাংচার করে তখন এ ভারসাম্য ফেরাতে হয়।</p> <h3 align="justify">কারা আকুপাংচার চিকিৎসা নিতে পারে?</h3> <p align="justify">ছয় মাস থেকে নিরানব্বই বছর<strong>, </strong>যে কোনও বয়েসের রোগী আকুপাংচারের যোগ্য। আকুপাংচার চিকিৎসাবিদরা বলেন<strong>, </strong>এ চিকিৎসায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এই চিকিৎসা<strong>, </strong>কৌশলের প্রয়োগ পদ্ধতি — অতি সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কম খরচের কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে। স্নায়ুর সমস্যা দূর করতে এই আকুপাংচার বেশি কার্যকর। পিঠেব্যাথা<strong>, </strong>কাঁধ জমে যাওয়া<strong>, </strong>ঘাড়ব্যথা ও কটিবাতের মতো পেশি<strong>-</strong>অস্থিগত রোগ<strong>, </strong>স্নায়ুঘটিত রোগ ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য আকুপাংচার ব্যবহার হচ্ছে।</p> <p align="justify">ভারতের আকুপাংচারকে বিকল্প চিকিৎসা হিসাবে গণ্য করা হয়। ব্যয়বহুল না হওয়ায় এই চিকিৎসা পদ্ধতির জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাধারণ ভাবে নানা বেসরকারি উদ্যোগে এই চিকিৎসা হয়। এই বেসরকারি সংস্থাগুলিতে আকুপাংচার পদ্ধতিতে চিকিৎসা করারও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।</p> <p align="justify">সূত্র <strong>: </strong>বাংলাপিডিয়া</p>