ভূমিকা জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা যোজনা বা আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY) হলো ভারত সরকার কর্তৃক পরিচালিত বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পটি চালু করেন। এই স্কিমটির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের দরিদ্র এবং নিম্ন-আয়ের ১০ কোটিরও বেশি পরিবারকে (প্রায় ৫০ কোটি মানুষ) বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage) নিশ্চিত করা। মূলত আর্থিক অনটনের কারণে যেন কোনো পরিবার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং চিকিৎসার খরচ যোগাতে গিয়ে যেন কেউ দারিদ্রসীমার নিচে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই যোজনার লক্ষ্য। প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আর্থিক সুবিধা - এই যোজনার অধীনে প্রতিটি যোগ্য পরিবার প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস (নগদহীন) চিকিৎসার সুবিধা পায়। এই সুবিধাটি মূলত মাধ্যমিক (Secondary) এবং তৃতীয় পর্যায়ের (Tertiary) হাসপাতালের যত্নের জন্য প্রযোজ্য। কভারেজ ও পরিধি - প্রকল্পটি ভারতের যেকোনো পাবলিক বা তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে প্রযোজ্য। এতে চিকিৎসার আগের ৩ দিন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরবর্তী ১৫ দিনের ওষুধের খরচ ও পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। পোর্টেবিলিটি বা বহনযোগ্যতা - এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর পোর্টেবিলিটি। একজন সুবিধাভোগী ভারতের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে গিয়ে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, অর্থাৎ রাজ্য নির্বিশেষে এই কার্ড ব্যবহারযোগ্য। সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া - সুবিধাভোগীদের নাম ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক ও জাতিগত আদমশুমারি (SECC 2011) তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় মূলত পেশা এবং গৃহহীনতার ওপর ভিত্তি করে এবং শহরাঞ্চলে নির্দিষ্ট ১১টি পেশাগত ক্যাটাগরির ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়। এই প্রকল্পে পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। অন্তর্ভুক্ত স্বাস্থ্য সেবাসমূহ - এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১,৩৯৩টি চিকিৎসা প্যাকেজ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: - ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কেমোথেরাপি - হৃদরোগের অস্ত্রোপচার (যেমন স্টেন্টিং বা বাইপাস) - নিউরোসার্জারি - হাঁটু এবং নিতম্ব প্রতিস্থাপন - ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা বাস্তবায়ন ও পরিচালনা - জাতীয় স্তরে এই প্রকল্পটি 'জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ' (National Health Authority - NHA) দ্বারা পরিচালিত হয়। রাজ্য স্তরে 'রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থা' (State Health Agency - SHA) এর তদারকি করে। কিছু রাজ্য এই প্রকল্পটি একটি বীমা কোম্পানি বা ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে। প্রকল্পের প্রভাব ও গুরুত্ব আয়ুষ্মান ভারত ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটি বেসরকারি খাতের হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ (Out-of-Pocket Expenditure) হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মানুষ উপকৃত হয়েছে।