ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা (PMJJBY) হল ভারত সরকার পরিচালিত একটি জীবন বীমা প্রকল্প। এই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল দেশের জনগণের একটি বড় অংশকে বীমা কভারেজের আওতায় আনা। ২০১৫ সালের ৯ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এটি মূলত একটি এক বছর মেয়াদী জীবন বীমা পরিকল্পনা যা প্রতি বছর নবায়ন করা যায়। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য PMJJBY প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হল নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি যাতে সম্পূর্ণ নিঃস্ব না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করাই এই জীবন বীমা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে জীবন বীমার সুবিধা প্রদান করে। আবেদনের যোগ্যতার মানদণ্ড এই বীমা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়: - বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে পলিসি নবায়ন ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত করা সম্ভব। - ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আবেদনকারীর একটি সক্রিয় সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং ওই ব্যাঙ্কটিকে এই প্রকল্পের অংশীদার হতে হবে। - সম্মতিপত্র: গ্রাহককে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিমিয়াম কাটার (Auto-debit) জন্য সম্মতি প্রদান করতে হবে। বীমার সুবিধা ও কভারেজ প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনার অধীনে যে কোনো কারণে (স্বাভাবিক মৃত্যু বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু) বীমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত উত্তরাধিকারীকে (Nominee) ২ লক্ষ টাকা বীমা সুবিধা প্রদান করা হয়। তবে পলিসি শুরু হওয়ার প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কোনো বীমা দাবি (Claim) করা যায় না (দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়)। প্রিমিয়াম এবং পরিশোধ পদ্ধতি এই প্রকল্পের বার্ষিক প্রিমিয়াম অত্যন্ত নামমাত্র রাখা হয়েছে। বর্তমানে বার্ষিক ৪৩৬ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে (শুরুতে এটি ৩৩০ টাকা ছিল)। প্রিমিয়ামটি গ্রাহকের লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি বছর মে মাসের ৩১ তারিখের আগে সরাসরি কেটে নেওয়া হয়। কভারেজের মেয়াদ প্রতি বছর ১লা জুন থেকে পরবর্তী বছরের ৩১শে মে পর্যন্ত কার্যকর থাকে। আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র এই বীমা প্রকল্প গ্রহণ করা অত্যন্ত সহজ এবং নথিপত্র প্রদানও ন্যূনতম। - নথি: আধার কার্ডই মূলত প্রাথমিক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস এবং নমিনির তথ্য প্রয়োজন। - আবেদন: গ্রাহক তাঁর নিকটস্থ ব্যাঙ্ক শাখা অথবা পোস্ট অফিসে গিয়ে আবেদন ফর্ম জমা দিয়ে এই বীমা গ্রহণ করতে পারেন। অনেক ব্যাঙ্কে নেট ব্যাঙ্কিং বা মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপের মাধ্যমেও সরাসরি নাম নথিভুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া (Claim Settlement) বীমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলে নমিনিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে দাবি দাখিল করতে হয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন—মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate), নমিনির পরিচয়পত্র এবং ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের কপি জমা দিতে হয়। ব্যাঙ্ক যাবতীয় তথ্য যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির কাছে পাঠায় এবং অনুমোদন পাওয়ার পর সরাসরি নমিনির অ্যাকাউন্টে বীমার টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা ও বর্তমান স্থিতি একজন ব্যক্তি একটি মাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত হতে পারেন। একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যুক্ত হলেও কভারেজ শুধুমাত্র ২ লক্ষ টাকাই সীমাবদ্ধ থাকে। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে ভারতে মাইক্রো-ইনস্যুরেন্স বা ক্ষুদ্র বীমার প্রসার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষ এর সুবিধা গ্রহণ করছেন।.