নিগম গড়ার উদ্দেশ্য ওয়েস্টবেঙ্গল মাইনরিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফিনান্স কর্পোরেশন অ্যাক্ট ১৯৯৫ অনুসারে ১৯৯৬ সালে গঠিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম। এই কর্পোরেশনের কাজ হল শিল্প, বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আর্থিক উন্নয়ন ঘটানো। ভারত সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মুসলিম, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, পারসি এবং শিখরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসাবে চিহ্নিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জৈনরাও এ রাজ্য সংখ্যালঘু হিসাবে চিহ্নিত। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় তারা কেবল রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি থেকেই সাহায্য পেয়ে থাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্কলারশিপ প্রদান, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কেরিয়ার কাউন্সেলিংয়ের বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে নিগম এবং সেগুলি সাফল্যের সঙ্গে চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি বিত্ত ও উন্নয়ন নিগম এবং জাতীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগমের রাজ্য এজেন্সি পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম। ওই দুই কেন্দ্রীয় সংস্থার আর্থিক প্রকল্পগুলিকে এ রাজ্যে কার্যে পরিণত করার দায়িত্ব রাজ্য নিগমের। এই নিগম বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সম্পর্কিত ঋণেরও ব্যবস্থা করে। হাজি মহম্মদ মহসিন ফিক্সড এনডাওমেন্ট প্রোগ্রাম থেকে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করাও নিগমের দায়িত্ব। নিগমের কর্মসূচি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা ও স্বনিযুক্তি প্রকল্প চালু করা। বিভিন্ন কর্মমুখী পাঠক্রমের জন্য শিক্ষা-ঋণের ব্যবস্থা করা। বৃত্তিমূলক পাঠক্রমের জন্য বৃত্তি ও স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা করা। উদ্দিষ্ট গোষ্ঠী ১৮ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের স্বনির্ভর করা এবং ১৬ থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করাই নিগমের মূল উদ্দেশ্য। তবে দেখতে হবে গ্রামীণ এলাকায় তাদের পারিবারিক আয় যেন বছরে ৮১ হাজার টাকা অতিক্রম না করে। শহরের ক্ষেত্রে পারিবারিক আয় ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকার কম হতে হবে। প্রকল্প মেয়াদি ঋণ প্রকল্প ১) এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত, ২) এক লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। ঋণের ক্ষেত্রে এক জনকে গ্যারেন্টার থাকতে হয়। বিডিও,পঞ্চায়েত সমিতি এবং এসডিও অফিস থেকে ঋণের আবেদন করার জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র পাওয়া যায়। কুড়িটি কিস্তিতে ৬ শতাংশ হারে সুদে পাঁচ বছরে ঋণ শোধ করতে হয়। ৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ৫শতাংশ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরাসরি ক্ষুদ্র আর্থিক সাহায্য স্বনির্ভর গোষ্ঠী, বিশেষত মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরাসরি ৬ শতাংশ হারে ঋণ দেওয়া হয়। ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হয়। নিগমের সুপারভাইজারদের মারফত এ ধরনের ঋণের জন্য আবেদন করা যায়। সংখ্যালঘু মহিলা ক্ষমতায়ন কর্মসূচি সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর এই প্রকল্পটি চালু করেছে। এর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়। প্রত্যেক ঋণগ্রহিতাকে ১৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। তহবিল থাকার শর্তে বিডিও ও পুরসভার মাধ্যমে এই ঋণের জন্য আবেদন করতে হয়। রোকেয়া শাখাওয়াত গ্যাস ওভেন মাইক্রো ক্রেডিট স্কিম স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের এই প্রকল্পে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয়। এর জন্য নিগমের দফতরে আবেদনপত্র পাওয়া যায়। শিক্ষা ঋণ এ দেশে পড়ার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টা্কা এবং বিদেশে পড়ার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। বিভিন্ন পেশাদার পাঠক্রম, যেমন ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি পড়ার জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়। প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে নিগমের ওয়েবসাইটে-www.wbmdfc.net ঋণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশিত হয়। মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ বছরে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। (এর মধ্যে পাঠক্রমের জন্য খরচ ২০ হাজার টাকা, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ১০ হাজার টাকা /হস্টেলের ক্ষেত্রে খরচ ৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।) এই বৃত্তি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের বিভিন্ন পাঠক্রমের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। অন লাইনে আবেদন করার ঠিকানা—http://momasscholarship.gov.in ম্যাট্রিক-পরবর্তী বৃত্তি একাদশ শ্রেণি থেকে পিএইচডি স্তরের শিক্ষা পর্যন্ত এই বৃত্তি দেওয়া হয়। এর পরিমাণ প্রতি বছর ২৭০০ টাকা থেকে ১০,৮০০ টাকা। এর ভিতর পাঠক্রমের ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ধরা রয়েছে। তবে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শেষ পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। আগের ঠিকানাতেই এই ঋণের জন্য আবেদন করা যায়। প্রতিভা সহযোগিতা প্রকল্পের আওতায় ম্যাট্রিক-পরবর্তী স্টাইপেন্ড রাজ্যের যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী শেষ পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের কম নম্বর পেয়েছে কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ১) একাদশ শ্রেণি থেকে পিএইচডি স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। ২) বার্ষিক পারিবারিক আয় ২ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। ৩) ৩০ শতাংশ বৃত্তি ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। ৪) যতক্ষণ তহবিল থাকবে ততক্ষণই বৃ্ত্তি দেওয়া হবে। ৫) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে বাৎসরিক বৃত্তির পরিমাণ ২৫৫০ টাকা। স্নাতক স্তরে ৪৮০০ টাকা ও স্নাতকোত্তর স্তরে বছরে ৪৯০০ টাকা। ম্যাট্রিক-পূর্ববর্তী বৃত্তি প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চালানোর জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হয়। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বছরে ১ হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বছরে ১২৪০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়। জুলাই, আগস্ট মাসে বিডিও দফতর, পঞ্চায়েত দফতর, এসডিও দফতরে ফর্ম পাওয়া যায়। হাজি মহম্মদ মহসিন এনডাওমেন্ট ফান্ড বৃত্তি দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ ১০০ জন মুসলিম ছাত্রকে এককালীন এই বৃত্তি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৭০ জনকে মাধ্যমিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ, ২০ জনকে হাই মাদ্রাসা উত্তীর্ণ ও ১০ জনকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এদের এককালীন ২০হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বিস্তারিত জানার জন্য খোঁজ— www.wbmdfc.org কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এসএসসি, ডবলুবিসিএস প্রভৃতি সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য নিখরচায় পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হয়। ঠিকানা অ্যাম্বের ডিডি-২৭/ই, সেক্টর ওয়ান বিধাননগর।কলকাতা-৭০০০৬৪ ফোন-০৩৩ ৪০০৪৭৪৬৯ চেয়ারম্যান কী বলেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগমের কাজকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন চেয়ারম্যান আবু আয়েশ মণ্ডল। নিগম এ রাজ্যে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে কী কী প্রকল্প চালাচ্ছে? সর্বস্তরে শিক্ষাবৃত্তি চলুর ব্যবস্থা করেছি আমরা। এর মধ্যে আছে প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ (দশম শ্রেণি পর্যন্ত), পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ (দশম শ্রেণি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত), মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ। মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ দেওয়া হয় মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ল, ম্যানেজমেন্ট পড়তে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের। যত দিন তারা পড়াশোনা চালাবে তত দিন বিনা সুদে নিগম থেকে ঋণ পাবে। ডিগ্রি অর্জনের পর এক বছর পর থেকে দু’বছরে কিস্তিতে ঋণ শোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ শোধ দিতে না পারলে ৩ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হয়। প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে পঠনপাঠনের খরচের সঙ্গে হস্টেলের খরচও দেওয়া হয়। যারা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে তাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পঠনপাঠনের খরচ দেওয়া হয়। পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ ছাড়া বিত্ত নিগম নানা ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে। যে সব সংখ্যালঘু মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ তাঁরা ছোট ব্যবসা বা ছোট প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। যেমন মুড়ি ভাজা বা মুদির দোকান চালানো, বৈদ্যুতিন যন্ত্র মেরামতির কাজ, মোবাইল সারানোর কাজ ইত্যাদি। এই প্রকল্পে ৬ শতাংশ সুদে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যেতে পারে। পাঁচ বছরে কুড়িটি কিস্তিতে সুদ-সহ ঋণ ফেরত দিতে হবে। আমরা ডিএলএস স্কিম বা সরাসরি ঋণদান প্রকল্পও চালাই। এই প্রকল্পে ন্যূনতম দশ জন মহিলা নিয়ে (সর্বাধিক কুড়ি জন) স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করা যায়। এঁরা গোষ্ঠী হিসাবে ঋণের সুযোগ পান। এই প্রকল্পে দশ জনের মধ্যে তিন জন আর্থিক ভাবে দুর্দশাগ্রস্ত বর্ণহিন্দু সম্প্রদায়ের (তিরিশ শতাংশ) মহিলাও থাকতে পারেন। কাপড় সেলাই থেকে শুরু করে আচার তৈরি করা বা মুড়ি ভাজার মতো অজস্র ছোট ব্যবসায় এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ পাওয়া যায়। ১৮ মাসে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়। য সব গোষ্ঠী সময়ে ঋণ পরিশোধ করে তারা ফের ঋণ নেওয়ার সুযোগ পায়। নিগম বৃত্তিমূলক শিক্ষারও ব্যবস্থা করে। ৯৭ ধরনের পাঠক্রমকে আমরা অনুমোদন দিয়েছি। নামজাদা সংস্থা থেকে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। তবে দেখে নিতে হয় শিক্ষান্তে কাজের সুযোগ পাওয়া বা স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেন কোনও বাধা না আসে। বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইসিজি টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সার্ভেয়ার, ডিজাইনার, ফার্মাসিস্ট প্রভৃতি পেশার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। এগুলি সচরাচর ৬ মাস থেকে এক বছরের পাঠক্রম। শিক্ষা শেষে কত জন স্বনির্ভর হল, কত জন সরকারি সংস্থায় বা কত জন বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পেল আমরা তার হিসাব রাখি। প্রঃ অন্য কোনও ধরনের নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি? হ্যাঁ, আমরা এসএসসি, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন, ডবলুবিসিএস প্রভৃতি সরকারি পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে কয়েকটি ইনিস্টিটিউটে ছাত্র-ছাত্রী পাঠাই। তাদের পড়ার সম্পূর্ণ খরচ আমরাই দিচ্ছি। প্রঃ এ ধরনের পরীক্ষায় সাফল্যর হার এ পর্যন্ত কতটা? সঠিক হিসাব এই মুহূর্তে হাতের কাছে নেই। তবে মোটামুটি তিরিশ শতাংশের আশপাশে বল যেতে পারে। প্রঃ নিগমের আবাসন প্রকল্প রয়েছে কি? হ্যাঁ, যাদের প্রয়োজন রয়েছে এমন সংখ্যালঘুদের আবাসন তৈরির জন্যও ঋণ দেয় নিগম। ট্যাক্সি বা অন্য ব্যবসায়িক যান কেনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দিক বিচার করে নিগম ঋণ দিয়ে থাকে। প্রঃ ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বা স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা কি বাড়তি কোনও সুযোগ পান? সাধারণ স্কিমগুলির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনও সুযোগ নেই। তবে আমরা দেখে নিই প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ শতাংশ মহিলা যেন প্রকল্পের সুযোগ নিতে পারেন। সংখ্যাটা বেশি হলে ভাল। প্রঃ এ রাজ্যে ঋণ পরিশোধের হার কেমন? খুব সন্তোষজনক না হলেও সন্তোষজনক। তিন বছর আগে আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বহু ঋণখেলাপি ছিল। নিগম একটি কালো তালিকাও তৈরি করেছিল। আমি সেই তালিকাটি তুলে দিতে বলেছিলাম। এখন বেশ ভালো হারেই ঋণ শোধ হচ্ছে। বিশেষ করে ডিএলএস স্কিমে মহিলারা খুব ভালো ভাবে ঋণ পরিশোধ করছেন। মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে পরিশোধের হার সন্তোষজনক। প্রঃ আর কোনও নতুন প্রকল্পর কথা ভাবছেন কি? আপাতত আর কোনও নতুন প্রকল্পের কথা ভাবছি না। এ বছর অর্থাৎ ২০১৩-২০১৪ সালে ২৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৪৮ জনকে ঋণ দিয়েছি। ৫০হাজার যুবক-যুবতীর প্রশিক্ষণ ও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। প্রঃ বৃত্তির পুরোটাই কি কেন্দ্রীয় সরকার দেয়? হ্যাঁ, তবে রাজ্য সরকারও স্বতন্ত্র ভাবে কিছু প্রকল্প চালু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গাইড লাইনে বলা আছে ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পেলে তবেই বৃত্তি পাবে। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রায়ই বলতেন যারা ৫০ শতাংশের কম নম্বর পেয়েছে তারা কী অপরাধ করল? সে দিকে তাকিয়ে আমরা রাজ্য সরকারের পয়সায় ৫০ শতাংশের কম নম্বর পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরও বৃত্তি দিচ্ছি। বছরে ২ লক্ষ ২৯২ জনকে ট্যালেন্ট সাপোর্ট স্কিমে সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এ জন্য খরচ হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। প্রঃ অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় এ রাজ্যের বিত্ত নিগম কতটা কার্যকর? আগে পশ্চিমবঙ্গর চেয়ে ভাল পারফর্ম করত উত্তরপ্রদেশ ও কেরলের নিগম। তবে এখন সবাইকে ছাপিয়ে কার্যকারিতার দিক দিয়ে আমরা প্রথম স্থানে উঠে এসেছি। ২০১৩-২০১৪ সালে আমরা মোট ৬৭১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা খরচ করতে পেরেছি। ২০১২-২০১৩ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৫৫০ কোটি টাকার আশপাশে। আরও তথ্যের জন্য ভিসিট করুন, www.wbmdfc.org/upload সূত্রঃ Saibal Biswas, Senior Journalist