প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা (PMSBY): একটি বিস্তারিত আলোচনা প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা (PMSBY) হলো ভারত সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং জনহিতকর ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা প্রকল্প। দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে ২০১৫ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পটি চালু করেন। যোজনার প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য PMSBY-এর মূল লক্ষ্য হলো ভারতের একটি বড় অংশকে বীমার আওতায় আনা যাদের কোনো ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন বা যাদের আয় অত্যন্ত সীমিত, তাদের জীবন যাপনে কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনার ফলে আসা আর্থিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এই যোজনার প্রধান উদ্দেশ্য। যোগ্যতার মানদণ্ড এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত শর্তাবলি পূরণ করতে হয়: বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আবেদনকারীর একটি সক্রিয় সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। সম্মতি: ব্যাঙ্ক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-debit) প্রিমিয়াম কাটার জন্য আবেদনকারীর লিখিত সম্মতি থাকতে হয়। আধার কার্ড: আধার কার্ডকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকা আবশ্যক। প্রিমিয়াম এবং অর্থপ্রদান পদ্ধতি PMSBY-এর প্রিমিয়াম অত্যন্ত নামমাত্র রাখা হয়েছে যাতে সকলের পক্ষে এটি বহন করা সম্ভব হয়। বর্তমানে এর বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ২০ টাকা (আগে এটি ১২ টাকা ছিল)। প্রিমিয়ামটি প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের জন্য কার্যকর থাকে। আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি বছর মে মাসের শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টাকা কেটে নেওয়া হয়। বীমা কভারেজ এবং সুবিধাসমূহ এই প্রকল্পের অধীনে দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যু বা শারীরিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়: দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু: বীমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিকে (Nominee) ২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। সম্পূর্ণ অক্ষমতা: দুর্ঘটনায় দুটি চোখ হারানো, বা দুটি হাত বা পা ব্যবহার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে ২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। 3. আংশিক অক্ষমতা: একটি চোখ বা একটি হাত বা পা ব্যবহারের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেললে ১ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। আবেদন প্রক্রিয়া এই যোজনায় নাম নথিভুক্ত করা অত্যন্ত সহজ। যে ব্যাঙ্কে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে বা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। বর্তমানে অনেক ব্যাঙ্ক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই বীমা চালু করার সুবিধা দিচ্ছে। একটি সাধারণ ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই গ্রাহক এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারেন। দাবি (Claim) পেশ করার পদ্ধতি দুর্ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে দাবি পেশ করা প্রয়োজন। দাবি করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (যেমন- এফআইআর কপি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বা ডাক্তারী শংসাপত্র) নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করতে হয়। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে যাচাইকরণের পর টাকাটি সরাসরি মনোনীত ব্যক্তি বা আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। বীমা বন্ধ হওয়ার শর্তাবলী নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে এই বীমা কভারেজটি শেষ হয়ে যেতে পারে: সদস্যের বয়স ৭০ বছর পূর্ণ হলে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকার কারণে প্রিমিয়াম কাটা সম্ভব না হলে। সদস্য কোনো কারণে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে। কোনো ব্যক্তি একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করলে কেবল একটিই কার্যকর থাকবে এবং অন্যগুলি বাতিল বলে গণ্য হবে।