হোম / কৃষি / গৃহপালিত পশু চাষ / প্রশ্নোত্তরে প্রাণীপালন / মুরগি ও হাঁস প্রতিপালন : প্রশ্নাবলি
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

মুরগি ও হাঁস প্রতিপালন : প্রশ্নাবলি

মুরগি ও হাঁস প্রতিপালন নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

মুরগি পালন করলে কী লাভ হবে ?

আমরা সবাই জানি ঘরে কয়েকটা মুরগি থাকলে খাবারের পাতে ডিমের অভাব হয় না। আগেই আলোচনা করা হয়েছে বাড়িতে কয়েকটা বাড়তি ডিম থাকলে তা বাজারে বিক্রি করে কিছু পয়সা ঘরে আনা যায়। অর্থাৎ বাড়িতে মুরগি পুষলে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটবে, শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মা ও বোনেদের অপুষ্টি দূর হবে, তার সঙ্গে আয়ও বাড়বে। এছাড়া খাদ্য বস্তু হিসাবে ডিম ও মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই হাঁস-মুরগি পালনের ব্যবসা করলে, এই দিয়ে কিছু বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানও হতে আয় করার এটি একটি ভালো উপায়।

আমাদের রাজ্যে কেমন ভাবে মুরগি পালন করা দরকার ?

পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত সহনশীল জাতের দেশি মুরগি পালন করা হয়ে থাকে। দেশি মুরগি নিজে চরে খেতে পারে।রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, কাকর ইত্যাদি খেয়ে থাকে। আবার এরা পোকা-মাকড়, সাদা পিপড়ে, উদ্ধৃত্ত ভাঙা শস্য, ।মুরগির বর্জ্য পদার্থ ভাল সার হিসাবে কাজ করে মাটিকে উর্বর করে। তবে দেশি মুরগি পালন করলে কম ডিম পাওয়া যায়। ডিমের পরিমাণ বাড়াতে হলে উন্নত জাতের মুরগি

মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা তৈরি করার নিয়ম কী ?

অর্ধ-বদ্ধ পদ্ধতিতে চাষ করতে হবে। তাতে মাংস ও ডিমের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।3W র সাহায্যে বেছে নিতে হবে। ডিম পাড়ার ৭ থেকে ৯ দিনের মধ্যে একটি মোমবাতি বা বৈদ্যুতিক তির সামনে ডিমটি ধরলে যদি কুসুমটিকে স্বচ্ছ দেখায়, তাহলে ঐ ডিম থেকে বাচ্চা হবে না। আর যদি কুসুমটির মাঝে জিজ্ঞাসা চিহ্নের মত কালো দাগ দেখা যায় তাহলে ঐ ডিম থেকে বাচ্চা হতে পারে। গ্রীষ্মকাল হলে ৩ দিনের ও শীতকাল হলে ৭ দিনের বয়সের ডিমকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে।

ডিমে তা দেওয়ার লক্ষণ যে যে মুরগিতে দেখা যাবে, তাদের জন্য মুরগি প্রতি ১০টি করে ডিম বসাতে হবে।মুরগি ডিম পাড়ার ২১ দিনের পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। মুগির বাচ্চা ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত আঁতুড় ঘরে রাখতে হয়। আঁতুড় ঘরে বাচ্চাদের ছাড়ার আগে সরবত খাওয়াতে হয়। সরবত বানাতে হবে প্রতি ১০০ টির জন্য ২ লিটার জলে ১০০ গ্রাম চিনি ও ১০ মিলি লিটার তরল ভিটামিন মিশিয়ে।বাচ্চাগুলিকে অন্য ঘরে তোলার এক সপ্তাহ আগে সেই ঘরটিকে পরিষ্কার করে বন্ধ অবস্থায় রাখতে হবে। ঘরে সমান ভাবে ২ ইঞ্চি পুরু করে পরিষ্কার ও জীবানু মুক্ত ধানের তুষ বা কাঠের গুড়ো ছড়িয়ে দিতে হবে।ধানের তুষের উপর খবরের কাগজ বিছিয়ে দিতে হবে, যাতে মুরগির বাচ্চা এগুলি না খেয়ে ফেলে।ঘরের ভিতর বিদ্যুতের আলো বা কোরোসিন বাতি জ্বালিয়ে ঘর গরম করার পর বাচ্চাগুলিকে ঘরের ভতর রাখতে হবে।

জন্মের প্রথম ৬-৭ সপ্তাহের বাচ্চা মুরগির পরিচর্যা কেমনভাবে করা দরকার ?

আঁতুড় ঘর থেকে বাচ্চাগুলিকে অন্য ঘরে তোলার এক সপ্তাহ আগে সেটিকে পরিষ্কার করে বন্ধ অবস্থায় রাখতে হবে।ঐ ঘরে সমান ভাবে ২ ইঞ্চি পুরু করে পরিষ্কার ও জীবানু-মুক্ত ধানের তুষ বা কাঠের গুড়ো ছড়িয়ে দিতে হবে।ধানের তষের উপর খবরের কাগজ বিছিয়ে দিতে হবে, যাতে মুরগির বাচ্চা এগুলি না খেয়ে ফেলে।ঘরের ভিতর বিদ্যুতের আলো বা কেরোসিন বাতি জ্বালিয়ে ঘর গরম করার পর বাচ্চাগুলিকে ঘরের ভিতর রাখতে হবে।

প্রথম ৮-১০ দিন পর্যন্ত ঘরে খুব কম হাওয়া চলাচল প্রয়োজন। এর পর ঘরটিতে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল করা দরকার। ঠান্ডা হাওয়া দিলে মাদুর বা চট দিয়ে ঘরটিকে ঘিরে দিতে হবে। ঘরে পাত্রের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে পরিষ্কার খাবার জলের ব্যবস্থা করতে হবে। জল পরিষ্কার হতে হবে — যাতে তা থেকে কোনো রকম সংক্রামক রোগ ছড়ায় না। এমনভাবে জলের পাত্র রাখতে হবে যেন বাচ্চাগুলিকে বেশি দৌড়াদৌড়ি না করতে হয়। বাচ্চার জন্মের ১ম সপ্তাহে জলের সাথে কিছু ঔষধ, লবণ ও ভিটামিন যোগ করতে হবে।

কতদিন পর খোলা জায়গায় মুরগির বাচ্চা আনা উচিত ? সে সময়ে তাদের কেমন দেখাশোনা প্রয়োজন ?

৬-৭ সপ্তাহের পর মুরগির বাচ্চাদের খোলা জায়গায় যেতে দিতে হবে। সেই সময় বাচ্চাদের ওজন হবে ২৫০৩০০ গ্রাম। বাড়ির উঠানে সাধারণত ১০-২০ টি পর্যন্ত মুরগি পালন ভালো হয়। এরা সারাদিন পোকা-মাকড়, ঘাসপাতা ও আবর্জনা থেকে খাবার সংগ্রহ করে। তবে রাতে তাদের কাঠের বা বাঁশের ঘরে রাখতে হবে। সকালে ঘর থেকে মুরগি ছাড়ার আগে প্রত্যেক দিন তাদের পরিষ্কার পানীয় জল দিতে হবে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরলে খুদ-ভাঙা, গম-ভাঙা জাতীয় খাবার দিতে হবে। ৪-৬ মাস বয়সে মুরগির ১ কেজি মতো ওজন দাঁড়ালে সেগুলিকে মাংস হিসাবে বিক্রি করা যেতে পারে। কিছু মুরগিকে ডিম পাড়ার জন্যও পালন করতে হবে।

মুরগির রোগ হয়েছে কিনা তা কী কী লক্ষণ দেখে বোঝা যায় ? রোগের লক্ষণ দেখা গেলে কী করতে হবে ?

রোগ হলে মুরগির আচরণেই তা বোঝা যায়। যেমন, খাবার খেতে চাইবে না, মাথা পালকের মধ্যে গুজে দাড়িয়ে থাকবে আর ঝিমুবে। মুরগির রোগের লক্ষণ দেখা গেলেই কাছাকাছি প্রাণী-চিকিৎসক বা প্রাণীবন্ধুর পরামর্শ নিতে হবে।

মুরগির সাধারণত কী কী রোগ দেখা যায় ?

মুরগির সাধারণত নীচের রোগগুলি দেখা যায়

  • ম্যারেক্স
  • রাণীক্ষেত
  • গামবোরো
  • বার্ড ফ্লু
  • বসন্ত
  • ককসিডিওসিস

মুরগির রোগের প্রতিরোধ কীভাবে করা সম্ভব ?

মুরগি খোলা জায়গায় ঘোরে এবং আবর্জনা থেকে খাবার সংগ্রহ করে আর বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখির সঙ্গে এক সাথে ঘোরাফেরা করে। তাই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তবে থাকার জায়গাটি যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যায় এবং ঠিকমতো টিকা দেওয়া হয়, তবে বেশির ভাগ রোগই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটাও ঠিক যে, যদি সহনশীল প্রজাতির মুরগির পোষা হয়, তবে রোগের প্রবণতার হাত থেকে রেহাইপাওয়া যায়। কয়েকটি সহনশীল প্রজাতির নাম হল – গিরিরাজ, গিরিরানী, গ্রামলক্ষ্মী, কলিঙ্গ।

মুরগির বিমা করা দরকার কেন? কোন কোন সংস্থায় বিমা করা যেতে পারে ?

রোগে বা অন্য কোনো কারণে মুরগি মারা গেলে, চুরি হয়ে গেলে, হারিয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিমা করে রাখা দরকার। বিমা করা থাকলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। বিমা করার পর প্রতিবছরই বিমার টাকা (প্রিমিয়াম) জমা দিতে হবে। কয়েকটি বিমা-সংস্থার নাম হল – (ক) ন্যাশনাল ইন্সিওরেন্স, (খ) ওরিয়েন্টাল ইন্সিওরেন্স, (গ) ইউনাইটেড ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স, (ঘ) দি নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স, (ঙ) আই.সি.আই.সি.আই।

বিমা বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য জেলা বা মহকুমা শহরে বিমা কোম্পানিগুলির কার্য্যালয়ে যোগাযোগ

হাস কেন পালন করা হয় ?

এটা সবাইজানে যে, বাড়িতে হাস পুষলে ডিমের যোগান নিশ্চিত।এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটবে,শি অপুষ্টি দূর হবে। আবার ডিম, মাংস, পরিবারের আয়ও বাড়বে। এছাড়া খাদ্য বস্তু হিসাবে ডিম ও মাংসের, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মা ও বোনেদের

কোন জাতের হাস পালন করলে আয় বেশি হবে ? কেন ?

উন্নত জাতের খাকি ক্যাম্পবেল হাস পালন সব দিক দিয়ে লাভজনক | = হাসের খাবারে বাদামের খোল ব্যবহার করা উচিত নয় এটি একটি সংকরায়নপদ্ধতিতে উৎপন্ন এক মাস বয়সের আগে হাসের বাচ্চাকে জলে সাতার কাটার জাতের সহনশীল প্রজাতির হাস। খাকি সুযোগ দেওয়া উচিত নয় ক্যাম্পবেল হাস পালন লাভজনক | = টিকা দেওয়ার সময় বা অন্য সময়ে হাসের পা ধরা উচিত নয় কারণ – ডিম ফুটে বাচ্চা তৈরি করতে হলে ৬টি মাদি হাসের সঙ্গে একটি এই হাস ৪-৫ মাসে ডিম পাড়তে হাসা রাখা দরকার শুরু করে। একটি ডিমের পুষ্টিগুণ হাসকে কখনোই মুরগির খাবার খাওয়ানো উচিত নয় দুই গ্লাস দুধের পুষ্টি গুণের সমান। | = সুষম খাবার না খাওয়ালে আশানুরূপ ডিম পাওয়া যাবে না বেশি ডিম দেওয়ার জন্য এই হাস | হাসের খাবার কখনোই ১০ দিনের বেশি কিনে বা তৈরি করে ঔষধ ও টিকা দেওয়া দরকার পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। এরা একনাগাড়ে ২ বছর থেকে ২ বছর ৬ মাস পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। দেশি হাস বা মুরগির ডিমের চেয়ে এদের ডিম বড় হয়। ফলে বেশি দাম পাওয়া যায়। কম জলেও এদের পোষা যায়। এরা সহনশীল প্রজাতির হাস, তাই খুব গরম বা ঠাণ্ডায় এদের বিশেষ ক্ষতি হয় না।লো জৈব সার তৈরি হয় এবং সেই মল মাছের ভালো খাবার হিসাবে কাজ করে।

খাকি ক্যাম্পবেল হাসের নাম কীভাবে হল ?

১৯০৯ সালে মিসেস এ. ক্যাম্পবেল ইন্ডিয়ান রানার, ওয়াইন্ড ম্যালয়েড ও ফ্রান্সের রোয়েনের মধ্যেও সংকরায়ন ঘটিয়ে নতুন প্রজাতির হাস সৃষ্টি করেন। এই জাতের রং খাকি। ভদ্রমহিলার নাম অনুসারে ও খাকি রঙের জন্য এই জাতের হাসের নাম খাকি ক্যাম্পবেল দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে উন্নত জাতের হাস পালন করা হয় ?

উন্নত জাতের হাস তিন রকম ভাবে পালন করা যায়:

  • (১) নিবিড় পদ্ধতি,
  • (২) আধা-নিবিড় পদ্ধতি,
  • (৩) অবাধ পদ্ধতি।

তবে আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে হাস পালন করলে সুবিধা বেশি।

হাসের থাকার জায়গা কেমন হওয়া দরকার ?

গ্রাম্য পদ্ধতিতে হাসের থাকার ঘর সস্তায় এবং সহজে বানানো যায়। দিনের বেলায় হাঁস পুকুরে, ডোবায় চরে বেড়ায়। রাতে থাকার জন্য খড়ের চালের এক বা দুই চালাঘর-ই যথেষ্ট। ঘরের দেওয়ালের নীচের দিকে ২-৩ ফুট কাঠ বা মাটি দিয়ে ঘিরে দিতে হবে, যাতে দমকা হাওয়া না ঢোকে এবং অন্য কোনো বন্যপ্রাণী ভিতরে ঢুকে হাস মেরে না ফেলে। হাসপিছু রাতে থাকার জায়গা ৩ বর্গফুট (২ X ২ হাত) মাপের করতে হবে।

আঁতুড় ঘরে হাসের বাচ্চাদের কীভাবে যত্ন নিতে হয় ?

১ দিন বয়স থেকে ৪ সপ্তাহ বা ১ মাস বয়স পর্যন্ত হাসের বাচ্চার জন্য ব্রুডার বাক্সের প্রয়োজন। নূতন বাচ্চাকে ব্রুডারে ছাড়ার সময় চিনি, ভিটামিন ও ওষুধ মেশানো জল খাওয়াতে হবে (প্রতি লিটার জলে ৫ মিলি লিটার ভাইমিরাল, ১০০ গ্রাম চিনি ও ২ গ্রাম হেপ্টাসাইক্লিন মেশাতে হবে)। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে ব্রুডারের তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে হবে। আঁতুড় ঘরে থাকার সময় লিটারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে, যাতে লিটার ভিজে না থাকে এবং হাসের বাচ্চা লিটার না খেতে পারে। এর জন্য দু-তিন দিন লিটারের উপর পুরানো খবরের কাগজ পেতে দিতে হবে। তবে তারের জালের খাচায় বাচ্চার ব্রুডিং করলে ভালো হবে। আঁতুড় ঘরের (ব্ৰুডিং বাক্সের) মেঝে, জলের পাত্র ও খাবার পাত্রের আকৃতি এমন করতে হবে, যাতে বাচ্চারা স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারে, ঠোঁট দিয়ে খেতে পারে, কিন্তু পাত্রের মধ্যে নামতে না পারে। এক মাস পর্যন্ত এদের পুকুরের জলে ছাড়া হয় না। এই এক মাস বয়স পর্যন্ত বাচ্চা পালন করার ঝুঁকি অনেক। কারণ এই সময় পর্যন্ত বাচ্চার মৃত্যুর হার খুব বেশি। এই সময় ডাক্তারবাবু বা প্রাণীবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে সাহায্য নিতে হবে।

হাসের বাচ্চাদের মৃত্যুহার কমাতে কী কী করতে হবে ?

  • ক) বাচ্চাদের সারাদিন রোদে এবং রাতে তাপ দিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নজর রাখতে হবে যেন কাক, বড়াল, বাজপাখি ইত্যাদি বাচ্চাগুলিকে না মেরে ফেলে।
  • খ) বিজলী বাতি বা কেরোসিনের হ্যারিকেন জ্বলিয়ে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • গ) ১ দিন বয়স থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। ৮ সপ্তাহ থেকে ১৮ সপ্তাহ পর্যন্ত কৃত্রিম আলোর দরকার নেই। ১৮ সপ্তাহের পর আবার কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চার ২০ সপ্তাহ বয়স হয়ে গেলে ৪-৫ ঘণ্টা আলো দিলেই চলবে।
  • ঘ) ছোট বাচ্চাদের জলের পাত্ৰ যেন ১ ইঞ্চির বেশি গভীর না হয় এবং থালার উপর উল্টানো কোঁটোয় যেন জল না থাকে। জল পেলেই হাসের বাচ্চা খেলা করতে ভালোবাসে, আর তাতেই বাচ্চার মৃত্যুর হার বেড়ে যায়।
  • ঙ) প্রতিটি বাচ্চার বয়স অনুযায়ী জায়গা দিতে হবে। একসঙ্গে গাদাগাদি করে রাখলে মৃত্যুর হার বাড়বে।

বড় হাসের (১মাস - ৫ মাস বয়স পর্যন্ত) পালন কী কী পদ্ধতিতে করা হয় ?

আঁতুড় ঘর থেকে বার করার পর পালক গজানো হাসকে তিনভাবে পালন করা যায়। (১) পুকুরের জলে, (২) ডিপ লিটারে (অর্থাৎ আবদ্ধ পদ্ধতিতে), (৩) রানযুক্ত ডিপ লিটারে। ডিপ লিটার ও রানযুক্ত ডিপ লটার পদ্ধতিতে হাসের চরবার জন্য পুকুর বা জলাশয়ের দরকার হয় না। পরীক্ষা করে দেখা গেছে সাতার দিলে ডিম পাড়া কিছুটা কমে। কারণ, কাটার সুযোগ না দিলেও হাসের ডিম পাড়া কমে না। বরং খাকি ক্যাম্পবেল হাসকে পুকুরে সাতার কাটতে সাতার কাটলে শক্তি খরচ হয়। এই কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার দেওয়া সত্ত্বেও পুকুরে চরা হাসের ডিমে

পুকুরে ছেড়ে হাস পালনের সুবিধা কী কী ?

আমরা সবাই জানি হাস মাঠে চরতে বা পুকুরে সাতার কাটতে ভালোবাসে। পুকুর বা জলাশয় থাকলে হাস নিজেদের খাবার নিজেরাই যোগাড় করতে পারে। সেক্ষেত্রে আলাদা করে অল্প খাবার দিলেই চলবে। এজন্য পুকুরে ছেড়ে হাস পালন করলে খাবারের খরচ বেশ কমে যায়। তাই বাড়ির আশেপাশে পুকুর বা ডোবা থাকলে হাস পালনে অনেক সুবিধা।

ডিপলিটারে হাস পালনের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি কী কী ?

ডিপলিটার পদ্ধতিতে হাসের চরবার পুকুর বা জলাশয় লাগে না। শুধুমাত্র থাকবার জায়গা ও স্নান করার জন্য ৪ ইঞ্চি থেকে ৯ ইঞ্চি গভর ও ১ ফুট (১ হাত) চওড়া জলযুক্ত নালা থাকা দরকার। কেননা হাসেরা জলে যদি ভালোভাবে মাথা ডেবাতে না পারে তবে তাদের চোখের ক্ষতি হয়। এমনকি অন্ধও হয় যেতে পারে। অবশ্য এই ব্যবস্থায় পুরোপুরি ম্যাস-জাতীয় খাবার দিতে হয়। ফলে হাস পোষার খরচ অনেকটা বেড়ে যায়। তাহ দানার সঙ্গে পাতা ও সক্ত মিশিয়ে খাওয়ালে খাবারের খরচ অনেকটা কমানো যেতে পারে।

রানযুক্ত ডিপলিটারে হাস পালনের কী কী সুবিধা ?

রানযুক্ত ডিপলিটার ব্যবস্থায় থাকার জায়গা ছাড়াও চরবার জন্য হাস-প্রতি ১০-১৫ বর্গফুট (৩ হাত x ২ হাত ) জায়গা ঘিরে দিতে হবে। এক্ষেত্রেও স্নানের জন্য নালা থাকা দরকার এবং হাসকে প্রয়োজনীয় বাইরের খাবার (ম্যাস) ও তার সঙ্গে পাতা ও সক্তি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

হাসের খাবার কীভাবে দিতে হয় ?

হাসের খাবারের দিকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে। প্রতিটি হাসের জন্য খাবারের জায়গা ৪-৬ ইঞ্চি হবে। পরিষ্কার অ্যালুমিনিয়াম বা টিনের থালা খাবারের পাত্র হিসাবে ব্যবহার করা যায়। জল মিশিয়ে বা ভজিয়ে খাবার দিলে নষ্ট কম হবে এবং হাস সহজেই গিলতে পারবে। খোলা জায়গায় হাস পালন করলে সকালে এক বার এবং বিকালে হাসকে ঘরে তোলার আগে এক বার মোট দুই বার অল্প অল্প করে খাবার দতে হবে। একেবারে আবদ্ধ অবস্থায় (ডিপলিটার) পালনে মোট খাবার তিন বারে ভাগ করে দিতে হবে। দেখা গেছে হঠাৎ কোনো খাবার পরিবর্তন করলে হাসের ডিম দেওয়াও কমে যায়।

হাসকে কতটা পরিমাণে খাবার দিতে হয় ?

এক দিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের খাকি ক্যাম্পবেল হাসের কতটা খাবার লাগবে তার গড় পরিমাণ দেওয়া হল ঃ ১ দিন থেকে ১ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতিটি হাসকে কমবেশি দেড় কেজি ডাক স্টাটার ম্যাস খাওয়াতে হবে। ১ মাস থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত হাসকে কমবেশি ১৫ কেজি ডাক গ্রোয়ার ম্যাস খাওয়াতে হবে। ৬ মাস পরের থেকে ডিম পাড়ার হারের ওপর নির্ভর করে হাস পিছু দৈনিক ১৫০-১৭০ গ্রাম ডাক লেয়ার ম্যাস, এবং ১৫০-২০০ গ্রাম কোনো সজি বা পাতা খাওয়ানো ভালো।

হাসের খাবার কীভাবে বানাতে হবে ?

আজকাল বাজারে হাসের খাবারের জন্য যে ম্যাস পাওয়া যায়, তার গুণগত মান প্রায়ই ভালো থাকে না। ফলে ডিম উৎপাদনে তারতম্য থেকে যায়। সেই কারণে হাসের খাবার যদি নিজে তৈরি করে নেওয়া যায়, তবে ভালো হয়। হাসের খাবার কীভাবে তৈরি করতে হবে তার একটি তালিকা নীচে দেওয়া হল (প্রতি ১০০ কেজি খাবার তৈরির জন্য)। ভুট্টা / গম ভাঙা চালের খুদ / মাইলো / গম ভাঙা

* প্রতি ১০০ কেজি খাবারে ৩৫ গ্রাম রোডিমিক্স, ৫ গ্রাম নিয়াসিন ও ৩৫ গ্রাম কোসিন ফ্লোরাইড মেশাতে হবে। সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি এপিক হাসের খাবার খাওয়ানো যেতে পারে।

হাসের জন্য খাবার জলের ব্যবস্থা কেমনভাবে করতে হবে ?

হাস জলের প্রাণী। সেজন্য তার জলের দরকার অত্যন্ত বেশি। জলের যোগান কম হলে হাসের ক্ষতি হতে পারে। মাটির কলসি বা প্লাস্টিকের গামলা দিয়ে তৈরি করা ঝরণা পাত্র হাসের জল খাবারের পক্ষে ভালো। এই রকম পাত্রের গভীরতা ৬ ইঞ্চি হওয়া বাঞ্ছনীয়, কেননা হাসেরা জলে যদি ভালোভাবে মাথা ডোবাতে না পারে তবে তাদের চোখের ক্ষতি হয়। এমনকি অন্ধও হয়ে যেতে পারে। এছাড়া খাবার পর হাসেরা ঠোট ও নাক জলের মধ্যে পরিষ্কার করে। প্রতিটি হাসকে জল খাওয়ার জন্য যথেষ্ট জায়গা দিতে হবে।

হাসের বাচ্চা কোথায় পাওয়া যাবে ?

রাজ্য মুরগি খামার, গোবরডাঙা, উত্তর ২৪ পরগণা রাজ্য হাঁস-মুরগি খামার, পশ্চিম মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম, নিমপীঠ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্য আধিকারিক

প্রতিটি হাসের বাচ্চার দাম কত ?

প্রতিটি এক দিনের হাসের বাচ্চার দাম দশ টাকা।

* প্রতি ১০০ কেজি খাবারে ৩৫ গ্রাম রোডিমিক্স, ৫ গ্রাম নিয়াসিন ও ৩৫ গ্রাম কোসিন ফ্লোরাইড মেশাতে হবে। সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি এপিক হাসের খাবার খাওয়ানো যেতে পারে।

হাসের সাধারণত কী কী রোগ হয় ?

হাসেদের প্রধানত ডাক কলেরা এবং ডাক প্লেগ নামে রোগ দুইটি দেখা যায়।

এসব রোগ প্রতিরোধের উপায় কী ?

রোগ প্রতিরোধের উপায় হল ৬ সপ্তাহ বয়সে প্রতিষেধক টিকা দেওয়া। বছরে এক বার এই টিকা দিলে ভালো হয়।

কীভাবে বোঝা যাবে যে হাসের রোগ হয়েছে ?

  • রোগ হলে হাস খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
  • ঝিমুতে শুরু করে।
  • তার নাক ও চোখ দিয়ে জল পড়ে।
  • একাকী থাকবে আর খুঁড়িয়ে হাঁটবে।

হাসের রোগ হলে কী করা দরকার ?

অসুখ হলে ব্লকের বিভাগীয় প্রাণী চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে। তবে যত্ন ও পরিচর্য ভালো হলে আর ঠিক সময়ে টিকা দেওয়া হলে কম অসুখ হয়।

হাসের বিমা করা দরকার কেন ? কোন কোন সংস্থায় বিমা করা যেতে পারে ?

রোগে বা অন্য কোনো কারণে হাস মারা গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাসের বিমা করে রাখা দরকার। বিমা করা থাকলে লোকসান মেটাতে বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেয়। কয়েকটি বীমা সংস্থার নাম ২০ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে। বিমা করা বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য জেলা বা মহকুমা শহরে বিমা কোম্পানিগুলির কার্য্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

সু্ত্র: পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, গভর্নমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল

3.15625
নিউটন সেখ Mar 05, 2019 08:44 PM

হাঁসের ভেকসিন কোথাই পাবো

Biplab Barman Jan 10, 2018 03:44 PM

আমি কোচবিহারের দিনহাটায় থাকি | আমি লেগহর্ন মুরগি পালন করতে চাই | বাচ্চা কোথায় পাব ?

গঙ্গারাম সরেন Feb 19, 2017 02:04 PM

10 ফেব্রুয়ারি যেটা লিখেছি সেই মুরগি গুলির মা আজ আবার 13 টা বাচ্ছ দিল । চার মাসের মধ্যে দুই বার বাচ্ছা দিল এবং একটাও মরে নাই ।
ফিডিংপদ্ধতিতে পালন করছি ।

গঙ্গারাম সরেন Feb 10, 2017 04:12 PM

আমি দেশি মূরগী তিণ মাসে 800 গ্রাম ওজণ করেছি । ফিডিং পদ্ধতিতে । আট শ গ্রাম মুরগি দাম 160 টাকা । এগারো টি বাচ্ছা আছে খরচ 300 টাকা + ।
এইবার বনরাজা মুরগি 100 পিস অডার করেছি । বিশ দিন পর পাব ।
ফোঃ 0850 930 7110,

Tridip Kumar Das Feb 06, 2017 11:46 PM

Sir , I have need 1,00,000 pcs duck baby age 30 day. How much per pcs & where I shall contract ?

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top