হোম / ই-গভর্ন্যান্স / কনটেন্ট / আরটিআই / নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই)
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা Review in Process

নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই)

কেন্দ্রীয় বা রাজ্যের অধীন কর্তৃপক্ষের (পাবলিক অথরিটি) তথ্য পেতে হলে নাগরিকদের কী করতে হবে তা এখানে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

আরটিআই-এর মাধ্যমে তথ্য জানার পদ্ধতি

আরটিআই কেন ?

ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকারকে সুনিশ্চিত করে। তথ্য জানার অধিকারও এই ধারার মধ্যে পড়ে বলে সুপ্রিম কোর্ট মনে করে। একে বাস্তবে প্রয়োগ করতে তৈরি হয় তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই) ২০০৫। এই অধিকার দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে নাগরিকদের হাত শক্ত করে। বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণের ক্ষমতা তৈরি করে দেয়। সমস্ত সরকারি তথ্যকে যাচাই করে তাঁরা জানতে পারেন, যাদের ভোট দিয়ে সরকারে পাঠিয়েছিলেন তাঁরা ঠিকমতো কাজ করছেন কিনা। আরটিআইকে হাতিয়ার করে দেশের এক জন নাগরিক দর্শক থেকে প্রশাসন প্রক্রিয়ায় এক জন সংক্রিয় অংশগ্রহণকারী হতে পারেন। এই আইন বলে এক জন নাগরিক দেশের সমস্ত সরকারি দফতরের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। শুধু জম্মু-কাশ্মীর ছাড়া সারা দেশেই এই আইন প্রযোজ্য।

তথ্য সংগ্রহের সুযোগ

আইটিআই আইন ২০০৫-এর সেকশন ২(জে)-এ তথ্যের অধিকার মানে সমস্ত কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি কর্তৃপক্ষের (পাবলিক অথরিটি) তথ্য জানার অধিকার। এর মধ্যে পড়ছে:

  • কাজ, তথ্য এবং রেকর্ডস দেখার অধিকার
  • প্রত্যায়িত নমুনা গ্রহণ
  • ফ্লপি, টেপ, ভিডিও ক্যাসেট বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অথবা প্রিন্ট আউট করে কমপিউটারে রাখা তথ্য সংগ্রহণ করা যাবে
সরকারি কর্তৃপক্ষ কী ?

এই আইনে সরকারি কর্তৃপক্ষ (পাবলিক অথরিটি) মানে, সরকারের সমস্ত সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
  • সংসদ বা রাজ্য আইনসভার আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
  • কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে প্রতিষ্ঠিত
  • কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অনুদান প্রাপ্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ, এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যারা প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ ভাবে সরকারি অনুদান পায়
তথ্য কী
  • রেকর্ড
  • নথি
  • মেমো
  • ই-মেল
  • মতামত
  • পরামর্শ
  • প্রেস রিলিজ
  • বিজ্ঞপ্তি
  • নির্দেশ
  • লগবুক
  • চুক্তি
  • রির্পোট
  • দলিল-দস্তাবেজ
  • নমুনা
  • মডেল
  • তথ্য যেগুলি ইলেকট্রনিক মোডে ধরা আছে
  • আপাত বলবৎ কোনও আইনে পাবলিক অথরিটির নেওয়া কোনও বেসরকারি সংস্থার তথ্য
রেকর্ড কী
  • যে কোনও নথি, খসড়া এবং ফাইল
  • যে কোনও মাইক্রোফিল্ম অনুলিপির কপি
  • যে কোনও নতুন করে তৈরি ছবি এবং মাইক্রোফিল্মে রেখে দেওয়া সেই ছবি
  • কম্পিউটার বা অন্য কোনও যন্ত্রে রেখে দেওয়া তথ্য

কোন তথ্য প্রকাশযোগ্য নয়

এক জন নাগরিককে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি দেওয়া হবে না যদি তিনি তথ্য আধিকারিককে বোঝাতে সক্ষম না হন যে, প্রকাশিত তথ্য জনস্বার্থে কাজে লাগবে ( এ ক্ষেত্রে আংশিক তথ্য দেওয়া যেতে পারে যার মধ্যে অপ্রকাশযোগ্য কোনও তথ্য থাকবে না )

  • দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিঘ্নিত হয় এমন তথ্য, যে তথ্য প্রকাশ করলে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটে, অপরাধের উস্কানিতে সাহায্য করে, দেশের অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, সেই ধরনের কোনও তথ্য
  • আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কোনও তথ্য বা এমন তথ্য যা প্রকাশ করলে আদালতের অবমাননা হবে
  • সংসদ বা রাজ্য বিধানসভার অধিকার ভঙ্গ হতে পারে এমন কোনও তথ্য
  • বাণিজ্যিক গোপন বিষয়, ব্যবসায়িক গোপন কৌশল বা বুদ্ধিগত সম্পত্তি যার প্রকাশ তৃতীয় পক্ষের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ক্ষতি করবে, যদি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে বৃহত্তর জনস্বার্থে এই তথ্যের প্রকাশ প্রয়োজন
  • কোনও ব্যক্তির আস্থাভাজন সম্পর্ক সূত্রে পাওয়া তথ্য, যদি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে বৃহত্তর জনস্বার্থে এই তথ্যের প্রকাশ প্রয়োজন
  • বিদেশি সরকারের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্য
  • এমন কোনও তথ্য যা প্রকাশ করলে কোনও ব্যক্তির শারীরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বা নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দেওয়া কোনও সূত্র বা তথ্য
  • যে তথ্য প্রকাশের ফলে অপরাধীদের সম্পর্কে অনুসন্ধান, গ্রেফতারি বা মামলা রুজু করা বিঘ্নিত হবে
  • মন্ত্রিপরিষদ, সচিব ও অন্য আধিকারিকদের আলোচনার নথিসহ মন্ত্রিসভার কাগজপত্র
  • ব্যক্তিগত তথ্য, যার সঙ্গে জনসাধারণের কার্যকলাপ বা আগ্রহের কোনও সম্পর্ক নেই বা ব্যক্তির গোপনীয়তায় অনধিকার হস্তক্ষেপ করা হবে, যদি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে বৃহত্তর জনস্বার্থে এই তথ্যের প্রকাশ প্রয়োজন

উৎস: পোর্টাল কন্টেন্ট দল

তথ্যের অধিকার আইন ব্যবহারের যোগ্যতা

যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক তথ্যের অধিকার আইনে তথ্যের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তথ্যের জন্য আবেদন
  • আপনি হাতে লিখে বা টাইপ করে যে কোনও পাবলিক অথরিটির (সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অনুদান প্রাপ্ত) কাছে তথ্য অধিকার আইন ২০০৫-এর অধীনে তথ্যের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র আইএনডিজি সাইট থেকেও ডাউনলোড করতে পারেন (পিডিএফ ফাইল)।
  • হিন্দি, ইংরিজি অথবা স্থানীয় ভাষায় আবেদন করতে পারেন
  • আবেদনপত্রে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি থাকবে :
    • ১. অ্যাসিট্যান্ট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার (সংক্ষেপে এপিআইও)/পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার (পিআইও)-র নাম ও ঠিকানা
    • ২. বিষয়: তথ্যের অধিকার আইন ২০০৫-এ ৬(১) ধারা অনুসারে আবেদন
    • ৩. কোন বিষয়ে তথ্য চাইছেন
    • ৪. আবদেনকারীর নাম
    • ৫. বাবা/স্বামীর নাম
    • ৬. এসসি/এসটি/ওবিসি
    • ৭. আবেদনপত্রের ফি
    • ৮. বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবার-হ্যাঁ/না
    • ৯. ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেল (ই-মেল এবং মোবাইল নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়)
    • ১০. স্থান এবং তারিখ
    • ১১. আবেদনকারীর স্বাক্ষর
    • ১২. আবেদনের সঙ্গে অন্য যে কাগজ দেওয়া হয়েছে তার তালিকা

প্রথম আপিল আবেদন

আরটিআই আইন ২০০৫-এ প্রথম আপিল আবেদন জমা দেওয়া সংক্রান্ত পরামর্শ

  • ১. কখন আপিল আবেদন জমা দিতে হবে
    • তথ্য আধিকারিক (পিআইও) আপনার আবেদন বাতিল করলে সিদ্ধান্ত জানার দিন থেকে তিরিশ দিনের মধ্যে প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষের (সংক্ষেপে এফএএ)-র কাছে আবেদন করতে হবে।
    • আবেদন করার তিরিশ দিনের মধ্যে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে অক্ষম হয়, সিপিআইও (এসিপিআইও)-এর কাছ থেকে আবেদন করার তিরিশ দিনের মধ্যে যদি কোনও উত্তর না আসে (এসিপিআইও কাছ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে), তবে সেই তিরিশ দিন পর থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম আপিল করতে হবে
    • যদি আবেদন জমা নেওয়ার জন্য কোনও সহকারী জন তথ্য আধিকারিক/ জন তথ্য আধিকারিক না থাকে
  • ২. এ ক্ষেত্রে কাকে আবেদন করতে হবে
    • সিপিআইও-র দেওয়া সিদ্ধান্তের চিঠি থেকে প্রথম আপিলের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নাম, ঠিকানা ও পদ জানা যাবে। যদি চিঠি না পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির ওয়েবসাইটের আরটিআই বিভাগে গিয়ে তথ্য জানা যাবে
    • উপরোক্ত প্রচষ্টা সত্ত্বেও যদি আপনি প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষের ঠিকানা জানতে সক্ষম না হন তবে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে আবেদন করুন

      তথ্যের অধিকার আইন ২০০৫-এর অধীনে

      প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষ

      প্রযত্নে

      প্রধান __________________ বিভাগ/ অফিস

      সিপিআইও অফিসের ঠিকানা

    • আপিলের শুনানিতে যদি উপস্থিত থাকতে চান তবে আপিলের শেষে তা উল্লেখ করুন
    • কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন কোনও সংস্থার ক্ষেত্রে প্রথম আপিলে কোনও ফি দিতে হয় না। তবে কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে ফি এবং নির্দিষ্ট আবেদনপত্র আছে। রাজ্য সরকারের অধীন কোনও সংস্থার এ সংক্রান্ত বিষয় জানার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আরটিআই আইন দেখুন।
    • আপিলের সঙ্গে দেওয়া সমস্ত কাগজপত্রের ফটোকপিতে ‘প্রত্যায়িত বা অ্যাটাসটেড’ শব্দটি লিখে তার নীচে স্বাক্ষর করতে হবে
    • আপিলের কপি এবং পোস্টাল রসিদ রেখে দিন। অবশ্য আবেদন আপনি নিজে জমা দিতে পারেন। তবে স্পিড পোস্ট বা রেজিস্ট্রি করে পাঠানোকেই অগ্রাধিকার দিন। তবে কুরিয়ার করে না পাঠানোই বাঞ্ছনীয়।
    • তিরিশ দিনের মধ্যে আসা আপিলকেই প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষ (সংক্ষেপে এফএএ) বিবেচনা করবেন। তবে ১৫ দিন বাড়তি সময় নেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেরির কারণ উল্লেখ করতে হবে। এফএএ লিখিত অথবা মৌখিক আদেশ দিতে পারেন।

দ্বিতীয় আপিল আবেদন

দ্বিতীয় আপিল আবেদন জমা দেওয়া সংক্রান্ত পরামর্শ

  • ১. কখন দ্বিতীয় আপিল জমা দেবেন
    • প্রথম অ্যাপিলিয়েট আধিকারিকের সিন্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে
    • যদি সংস্থাটির সরবরাহ করা তথ্য ভুল এবং বিভ্রান্তিকর হয়

অনলাইনে আবেদন

যখন আপনি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে তথ্য চান (দ্বিতীয় আপিলের ক্ষেত্রেও) তখন আপনাকে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের (সিআইসি) কাছে আবেদন করতে হবে। কখন আপনি সিআইসি-কে অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন যখন কোনও কেন্দ্রীয় জন তথ্য আধিকারিক না থাকার জন্য আপনি আবেদন জমা দিতে পারছেন না অথবা কেন্দ্রীয় সহকারী জন তথ্য আধিকারিক আপনার আবেদন নিতে অস্বীকার করছেন বা এই আইন অনুযায়ী আপনার আপিলকে কেন্দ্রীয় জন তথ্যে পাঠানো হচ্ছে না সেক্ষেত্রে।

অভিযোগ জমা দিতে  ক্লিক করুন : "Submit RTI complaint to CIC "

অভিযোগের অবস্থান জানতে ক্লিক করুন : "Know Your Status "

আরটিআইআবেদনের খসড়া করা

Request Form for Information

অনলাইনে আরটিআই আবেদন

আরটিআই আইনে তথ্য পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক/বিভাগ/দফতরে আবেদন করতে হবে। এই তথ্য সরবরাহের জন্য প্রতিটি সরকারি সংস্থা একজন করে অধিকারিক নিয়োগ করে, যিনি আবেদন অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে থাকেন।

বর্তমানে অনলাইনেও আরটিআই-এর আবেদন করা যায়। আবেদন করার জন্য নীচে একটি ওয়েব লিঙ্ক দেওয়া হল। তবে মনে রাখতে হবে, এই লিঙ্কে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই কেন্দ্রীয় সরকারের দিল্লিস্থিত কোনও প্রধান মন্ত্রক বা দফতরে আবেদন/প্রথম আপিল করতে পারেন। এই ওয়েবসাইটটি ভারত সরকারের কর্মী এবং প্রশিক্ষণ দফতরের উদ্যোগ।

অধিক জানকারির জন্যে https://rtionline.gov.in

পদ্ধতির কয়েকটি ধাপ

  • ১। “SIGN UP HERE”-এ ক্লিক করে প্রথমে আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে (এটি ওয়েবসাইটের নীচে ডান দিকে পাওয়া যাবে)।
  • ২। ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সাইন ইন করতে হবে।
  • ৩। লগইন করার পর ওয়েবসাইটে উপরের ডান দিকে “SUBMIT REQUEST” অপশন পাবেন। আইটিআই-এর আবেদন করার জন্য “SUBMIT REQUEST”-এ ক্লিক করতে হবে।
  • ৪। এখানে আপনি আরটিআই-এর নির্দেশিকা পাবেন। পুরো নির্দেশিকাটা পড়ে “I HAVE READ AND UNDERSTOOD THE ABOVE GUIDELINES”-এ টিক দিতে হবে। এর পর সেটি ‘Submit’ করতে হবে।
  • ৫। এর পর আপনি একটি অনলাইন আরটিআই আবেদনপত্র পাবেন। সেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাকে উল্লেখ করতে হবে।
    • ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে মন্ত্রক/বিভাগ/ শীর্ষ কমিটি নির্বাচন করতে হবে।
    • আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে।
    • আপনি সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কী কী তথ্য চাইছেন তা নির্দিষ্ট করতে হবে।
  • ৬। আরটিআই-এ আবেদন করতে গেলে ১০ টাকা ফি জমা দিতে হয়। তবে ২০১২-এর আরটিআই বিধি অনুযায়ী দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারীদের কোনও ফি লাগে না। ‘‘Is the Applicant Below Poverty Line ?’’ (আবেদনকারী কি দারিদ্র্যসীমার নীচে?) এই প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তবে আপনাকে ‘Yes’ (হ্যাঁ) তে ক্লিক করতে হবে। এই বিভাগে যিনি আবেদন করছেন তাঁকে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বিপিএল কার্ড শংসাপত্র আপলোড করতে হবে। এর পর সেটি ‘Submit’ করতে হবে।
  • ৭। বিপিএল তালিকাভুক্ত নন যারা, তাঁরা স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা এর সহযোগী ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ১০ টাকা জমা দিতে পারবেন। অথবা ভিসা বা মাস্টার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডেও অনলাইনে টাকা জমা দিতে পারবেন। ফি জমা দেওয়ার পরই আবদেন জমা দেওয়া যাবে।
  • ৮। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যাবে। এই নম্বটি ভবিষ্যতে আরটিই সংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ই-মেলে বার্তা অথবা এসএমএস-ও পাওয়া যাবে।

আবেদন করার ৩০দিন পর সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে তথ্য পাওয়া যাবে। আপনার আবেদনটি কী অবস্থায় রয়েছে উপরে উল্লিখিত ওয়েবসাইটের একবারে মাথায় “VIEW STATUS” –এ ক্লিক করে জানতে পারবেন।

এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরটিআই-এর প্রথম আপিলের আবেদনও করা যাবে। সাইটের উপরে “SUBMIT FIRST APPEAL” –এ ক্লিক করে আবেদন করতে পারা যাবে।

আরটিআই: কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন

তথ্য কী

তথ্য বলতে বোঝায় কোনও রেকর্ড, নথি, মেমো, ই-মেল, মতামত, পরামর্শ, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার, অর্ডার, লগবুক, চুক্তি, রিপোর্ট, পেপার, নমুনা, মডেল এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রাখা কোনও তথ্যসামগ্রী। আইন বলে কোনও বেসরকারি সংস্থার থেকে পাবলিক অথরিটি বা সরকারি কর্তৃপক্ষের আদায় করা তথ্যও এর মধ্যে পড়ে।

পাবলিক অথরিটি বা সরকারি কর্তৃপক্ষ কে

সংবিধানের নির্দেশে বা সংবিধানের অধীনে, সংসদ বা রাজ্য বিধানসভার আইনবলে অথবা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের তৈরি করা কোনও বিধি বা জারি করা কোনও বিজ্ঞপ্তিবলে গঠিত কোনও কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা বা স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কর্তৃপক্ষ বা পাবলিক অথরিটি বলে। কোনও সংস্থা যদি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন হয় অথবা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত অথবা ভালো রকম অর্থ সাহায্যপ্রাপ্ত হয় তবে সেই সংস্থা অথবা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অর্থ সাহায্যপ্রাপ্ত কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও সরকারি কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এই অর্থ সাহায্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে হলেও ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সরকারি কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।

জন তথ্য আধিকারিক কে

সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনও এক বা একাধিক ব্যক্তিকে জন তথ্য আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে। আরটিআই-এ কেউ তথ্যের জন্য আবেদন করলে এঁরাই তা সরবরাহ করে থাকেন।

কী কারণে তথ্য চাওয়া হচ্ছে তা কি জানাতে হয়

না। কী কারণে তথ্য চাওয়া হচ্ছে তা জানাতে হয় না।

কোন আইনি বিধানে তথ্য প্রকাশে ছাড় পাওয়া যায়

আইনের ধারা ৮-এর উপধারা ১ এবং ধারা ৯ অনুযায়ী কয়েক ধরনের তথ্যের প্রকাশে ছাড় পাওয়া যায়। তবে ধারা ৮-এর উপধারা ২-এ বলা হয়েছে, ১৯২৩ সালের সরকারি তথ্য গোপনীয়তা আইন এবং উপধারা ৩ (১) অনুযায়ী যে সব তথ্য প্রকাশে ছাড় রয়েছে তা প্রকাশ করা যেতে পারে যদি দেখা যায়, তথ্য গোপন রেখে যে ক্ষতি হচ্ছে তথ্য প্রকাশ করা হলে তা পুষিয়ে যাবে।

আরটিআই-এ আবেদনকারী কোনও সহায়তা পেতে পারেন কি

আবেদনকারী যদি লিখিত ভাবে অনুরোধ জানাতে না পারেন, তা হলে এ বাপ্যারে জন তথ্য আধিকারিককে তাঁর আবেদন লিখে দেওয়ার জন্য বলতে পারেন। আধিকারিক তাঁকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন। যদি কোনও প্রবীণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কোনও নথি দেখতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তবে জন তথ্য আধিকারিক ওই ব্যক্তিকে নথি পরিদর্শনে যথাবিহিত সহায়তা করবেন।

তথ্য পাওয়ার সময়সীমা কী

সাধারণ ভাবে আবেদন করার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে। যদি তথ্য তাঁর জীবন বা মু্ক্তি সংক্রান্ত হয় তবে তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ করতে হবে। যদি আবেদন সহকারী জন তথ্য আধিকারিকের মাধ্যমে পাঠানো হয় বা ভুল কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয় তবে আবেদনের গুরুত্ব অনুযায়ী ওই ৩০ দিনের সঙ্গে আরও ৫ দিন বা ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা যুক্ত হবে।

আবেদনের কোনও নির্দিষ্ট বিন্যাস আছে কি

আবেদনের কোনও নির্দিষ্ট বিন্যাস নেই। সাদা কাগজে তথ্যের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে আবেদনপত্রে আবেদনকারীর নাম ও পুরো ঠিকানা থাকতে হবে।

আরটিআই — সাফল্যের কাহিনি

তথ্যের অধিকারের স্বাদ পেল অম্ভেগাঁও

প্রায় দু’বছর আগে দাদুর মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসে আবেদন করেছিলেন সুবর্ণ ভাগ্যবন্ত। কিন্তু যত বারই তিনি আধিকারিকদের কাছে শংসাপত্র চাইতে গেছেন তত বারই তাঁরা তাঁকে হয় পরে আসতে বলেছেন না হয় বলেছেন ৫০০ টাকা দিতে। টাকা দিলেই দ্রুত মিলবে শংসাপত্র।

অম্ভেগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সুবর্ণর কাছে শংসাপত্রটি পাওয়া খুব জরুরি ছিল। কারণ ওই শংসাপত্রটি দেখিয়েই তাঁর ঠাকুমা বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করবেন। পঞ্চায়েত আধিকারিকের টেবিলে হন্যে হয়ে ঘুরেও মেলেনি শংসাপত্র। অবশেষে সুবর্ণ তথ্যের অধিকার আইনে কিছু প্রশ্ন রেখে আবেদন করেন। আবেদনের আট দিনের মাথায় শংসাপত্র পেয়ে যান।

এই ঘটনার পর সুবর্ণর মন্তব্য, ‘এক টুকরো কাগজ দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে আমাদের মতো ক্ষমতাহীনদের কাছে অস্ত্র’। অম্ভেগাঁও-এর বাসিন্দাদের কাছে আরটিআই যেন খরা-প্রবণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করার পর বৃষ্টি নামার মতো।

গ্রামেরই অন্য এক বাসিন্দা অর্চনা ভাগ্যবন্তের বক্তব্য,‘ আধিকারিকরা যখনই আমাদের কাজ করতে না চান, আমরা প্রশ্ন সহ আরটিআই ফাইল করি।’ এক বার রেশনকার্ড ইস্যু করার জন্য অর্চনার কাছে এক রেশন আধিকারিক ১৫০ টাকা চাইছিলেন। এক বছর অপেক্ষা করার পর অর্চনা আরটিআই মোতাবেক আবেদন করেন। আবেদনের তিন সপ্তাহের মধ্যে কার্ড পেয়ে যান অর্চনা। সরপঞ্চ ঘরে এসে কাডর্টি দিয়ে যান।

এর মধ্যে দিয়েই সুবর্ণ এবং অর্চনা একটি উদ্যোগে সামিল হয়ে যান। যে উদ্যোগটি যৌথ ভাবে শুরু করেছে পাবলিক কনসার্ন ফর গভর্ন্যান্স ট্রাস্ট (পিসিজিটি) এবং বহুজন হিতায় ট্রাস্ট। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হল আরটিআই হাতিয়ার ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রের কল্যাণ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে জীবনযাপনের মানোন্নয়ন করা।

সংশোধনাগারে ঠাসাঠাসি অবস্থার প্রতিবাদ

উত্তরপ্রদেশের সংশোধনাগারগুলিতে বন্দির ভিড়ে ঠাসা। এঁদের প্রায় অর্ধেক বিচারাধীন বন্দি। সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সঙ্গে বিচারধীন বন্দিদের এই ভাবে একই সেলে ঠাসাঠাসি করে রাখলে তাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়। রাজ্যে মোট বন্দির সংখ্যা ৮১,০২৭। এঁদের মধ্যে ৫৫,৪৬০ (৬০ শতাংশের বেশি) বিচারাধীন বন্দি। আবার বন্দিদের মধ্যে অনেকেরই সাজা খাটা হয়ে গেছে। অথচ তাঁরা এখনও সংশোধানাগারের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।

সংশোধনাগারে বন্দির যাবতীয় তথ্য জানতে চেয়ে আরটিআই করেন এনসিপিআরআই-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাজা জন বাঞ্চ। এর উত্তরে উত্তরপ্রদেশের আইজি (কারা) জানান, রাজ্যের সংশোধনাগারগুলোতে যত জন বন্দি থাকতে পারেন তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় বন্দিদের রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং সব রাজ্যেকে একটি নোটিশ জারি করে। এই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয় দেশের সংশোধনাগারগুলিতে মোট বন্দির সংখ্যার ষাট শতাংশেরও বেশি বিচারাধীন বন্দি রয়েছে। এই সংখ্যাটা হল ২ লক্ষ ৪১ হাজার। শীর্ষ আদালত ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোকে নোটিশ দিয়ে বলে, বিচারাধীন বন্দি, অভিযোগ অনুযায়ী যাঁদের সাজা হতে পারে তিন থেকে সাত বছর, তাঁদের জামিনের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় করে সঠিক নীতি তৈরি করতে হবে।

‘স্যার, আপনি কি বাঁধ তৈরির জন্য কাটমানি পেয়েছিলেন?’

বানাবাই কামরের এই প্রশ্নকে কৃষি বিভাগের আধিকারিক কার্যত হেসে উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর আনা দুর্নীতির এই অভিযোগে ওই আধিকারিকের কিছু হবে না। কারণ ইতিমধ্যেই তিনি জেলা কালেক্টর এবং মুখ্যমন্ত্রীকে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই উত্তর শুনে সত্তরোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধা মুম্বইয়ে গিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন তাঁর এলাকায় বাঁধ তৈরির কাটমানি মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছেন কিনা।

মহারাষ্ট্রের ইয়াওতমাল জেলার খারুলা গ্রামের বাসিন্দা বানাবাই। তাঁর ছ’জনের পরিবারে দিন আনি দিন খাই অবস্থা। যদিও তাঁর ২০ জনের বর্ধিত পরিবার ১০ হেক্টর জমির মালিক। এই জমির যে অংশ উর্বর সেখানে জোয়ার, ডাল এবং ধান চাষ করেন তাঁরা। ২০০৮-র জুন মাসে প্রবল বর্ষায় তাঁদের জমির লাগোয়া চেক বাঁধ ভেসে যায়। বাঁধের জল ভাসিয়ে দেয় জমিতে বসানো চারগাছকেও। কিন্তু বাঁধটি খুব পুরনো নয়। মাত্র এক বছর আগে সেটি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর বানাবাই সিদ্ধান্ত নেন তিনি কৃষি দফতরে অভিযোগ জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে তিন লক্ষ টাকা দেওয়া হয় এই বাঁধটি তৈরির জন্য।

বানাবাইয়ের অভিযোগ পেয়ে একটি তদন্তকারী দল গ্রামে তদন্তে আসে। খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের এক সুপারভাইজার, যিনি ওই বাঁধটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি বানাবাইকে এসে হুমকি দিয়ে যান। বাঁধ ভাঙার জন্য আধিকারিক উল্টে তাঁকেই দায়ী করেন। কিন্তু বানাবাই থেমে থাকেননি। তিনি জেলা কালেক্টরের কাছে অভিযোগ জানিয়ে দ্বিতীয় বার আবেদন করেন। সেই আবেদনে সুপারভাইজরের হুমকির কথাও লেখেন। দাবি করেন অভিযুক্ত ওই আধিকারিককে সাসপেন্ড করতে হবে। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন বাঁধ তৈরির জন্য তিন লক্ষ টাকা অনুমোদিত হলেও মাত্র এক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কালো মাটির বদলে মারুম (স্থানীয় এক ধরনের মোটা কাঁকর) দিয়ে বাঁধ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এত সব অভিযোগের পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর পর এক দিন বানাবাই সোজা জেলা কালেক্টরের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি ঘুষ নিয়েছেন’। মুখের উপর এই কথা শুনে রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে যান কালেক্টর। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি তদন্তকারী দলকে ওই এলাকায় পাঠিয়ে দেন। তাঁদের তদন্তে দেখা যায় বানাবাইয়ের অভিযোগই ঠিক। তাঁর দাবির স্বপক্ষে ইয়াওতমাল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রস্তাব নেয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে। শেষ পর্যন্ত ওই সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বাগেপল্লির জন্য ভালো রাস্তা

বেঙ্গালুরু থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তরে বাগেপল্লি গ্রাম। দু’পাশে গাছপালা ঘেরা আলকাতরা মেশানো নুড়ি পাথরে তৈরি রাস্তা। এক দিন হঠাৎ সরকারি আধিকারিকরা মনে করলেন বাগেপল্লিতে দ্বিমুখী পাকা রাস্তা হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। ২০০৫ থেকে শুরু হল রাস্তা তৈরির কাজ। কিন্তু সমগ্র কাজের মধ্যে ছিল অপেশাদারিত্ব। দু’টি রাস্তার মাঝখানে যে ডিভাইডার আছে তা এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল এবং একাধিক দুর্ঘটনাও হচ্ছিল। এর মধ্যে সাক্ষী ইন্টারন্যাশানল ট্রাস্ট বাগেপল্লি গ্রামে আরটিআই নিয়ে একটি কর্মশালা করে। এই কর্মশালায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য তৌফিক উপস্থিত ছিলেন। উৎসাহিত হয়ে তিনি বাগেপল্লির ওই রাস্তা তৈরি করার জন্য কত খরচ হয়েছে তা জানতে চেয়ে একটি আরটিআই করেন। জানা যায় এক কোটি বত্রিশ লক্ষ টাকা অনুমোদন হয়েছিল ওই রাস্তা তৈরির জন্য। সেখানে খরচ হয়েছে এক কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। এই তথ্য নিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে দাবি জানান রাস্তা আবার তৈরি করে দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত রাস্তা আবার তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস মেলে। তৌফিক বর্তমানে আরটিআই নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন এবং গ্রামের মানুষদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

এক আধিকারিকের ১৮,০০০ টাকা জরিমানা

তথ্যের অধিকার আইনে মধ্যপ্রদেশের মুখ্য তথ্য কমিশনার টিএন শ্রীবাস্তব জরিমানা করলেন মোরেনা জেলা নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের এক আধিকারিক সাজন আলুনাকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই আইনের অধীন তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য না দেওয়া এবং ঊধ্বর্তন অফিসারকে না মানার অভিযোগে এই জরিমানা করা হয়েছে। আলুনার নিজের স্বপক্ষে দেওয়া যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে মুখ্য তথ্য কমিশনার তাঁকে ১৮,০০০ টাকা জরিমানা করেন।

নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের ওই আধিকারিক প্রথম আবেদনটি প্রাথমিক তদন্তের পরই বাতিল করেন। কিন্তু জেলা কালেক্টর তাঁকে নির্দেশ দেন, যে হেতু আবেদনকারী কোনও গোপন তথ্য চাইছেন না তাই তাঁকে তথ্য দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু ওই আধিকারিক তথ্য না দিয়ে নানা অজুহাতে আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১২০০ টাকা জমা রাখার পরিবর্তে তিনি তথ্য দিতে রাজি হন। কিন্তু দ্বিতীয় আবেদনের পরও চাহিদামতো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই ওই আধিকারিককে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এই ধরনের আচরণকে মুখ্য তথ্য কমিশনার ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেছেন।

দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে হাতিয়ার আরটিআই

রাজস্থানের গ্রামবাসীরা দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে আরটিআইকে ব্যবহার করলেন। রেশনের চাল গ্রামবাসীদের না দিয়ে দেদার কালো বাজারে বিক্রি করছিলেন রাজস্থানের বিকানের জেলার হিম্মতসর গ্রামের এক রেশন ডিলার। রাভত রাম এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে আরটিআই করে সব তথ্য ফাঁস করলেন। কালো বাজারে চাল বিক্রির অপরাধে ওই রেশন ডিলারের ডিলারশিপ তো গেলই, জরিমানা হিসেবে গ্রামের গরিব বাসিন্দাদের চার লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। এই সাফল্যে খুশি হয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই জানিয়েছেন, এর আগে তাঁরা সরপঞ্চের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেতেন, যদি একশো দিনের কাজ না মেলে। তবে এই ঘটনার পর তাঁরা মনে জোর পেয়েছেন। শুধু হিম্মতসর গ্রামেই নয় গোটা রাজস্থানেই মানুষ তথ্যের অধিকার আইন ব্যবহার করে দুর্নীতির মুখোস খুলে দিচ্ছেন।

সাফল্যের আরও কাহিনির জন্য দেখুন Visit Central Information Commission

সূত্র :

সংশ্লিষ্ট সংযোগ

  1. Right to Information - For Inclusion and Empowerment- RTI Fellows Reports

আরটিআই জরুরি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কতটা সফল ?

লতিফ মিঞার আঠারো বছরের লড়াই সফল

আইনের হাত অনেক দীর্ঘ, আবদুল লতিফ মিঞার আঠারো বছরের লড়াই শেষ হল আধ পাতার নিরীহ চিঠিতে। প্রতাপশালী সরকারি আধিকারিক তিনটি সহজ প্রশ্নেই ধরাশায়ী : (ক) সরকারি নিয়ম অনুসারে আবেদন করার কত দিনের মধ্যে রেশন কার্ড পাওয়া যায়; (খ) আমার আবেদনপত্রের বর্তমান অগ্রগতি কতখানি হয়েছে ; (গ) কোন আধিকারিক আমার রেশন কার্ড দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ? তিরিশ দিনের মধ্যে চারটি রেশন কার্ড সরকারি কর্তা তুলে দিলেন রোগাসোগা মাঝবয়সি মানুষটির হাতে।

লতিফ মিঞার কাহিনি এক লহমায় শেষ। কিন্তু এর পিছনে আছে দীর্ঘ দিনের অবজ্ঞা, অবহেলা ও অধিকার বঞ্চনার প্রতিবাদ এবং তার বিরুদ্ধে প্রায় অসম এক যুদ্ধ। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর-১ ব্লকের ধরমপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়তের ঝাড়বাড়ি সিংনাথ গ্রামের লতিফ মিঞা ধৈর্য ও সাহসের উপর ভর করে দেখিয়ে দিলেন কেমন ভাবে আইন দিয়ে আইনি অধিকার রক্ষা করা যায়। হেঁয়ালি শোনাচ্ছে ? দেখে নিতে পারি আদতে কী হয়েছিল ? উন্নয়নের সমস্ত সূচকের নিরিখে অন্য জেলার থেকে উত্তর দিনাজপুর বেশ পিছিয়ে। লতিফ মিঞার মতো পরিবারগুলি খাদ্য সুরক্ষার জন্য গণবণ্টন ব্যবস্থার উপর ভীষণ ভাবে নির্ভরশীল। আইনি ভাবে যা পাওয়ার কথা তা পাওয়া যায় না ; যা পাওয়া যায় তা-ও সংসারের আর্থিক বোঝা কিছুটা হলেও কমায়। চার সন্তানসহ স্বামী ও স্ত্রী-কে নিয়ে ছ’জনের সংসার, ভিটেটুকুই স্বায়ী সম্পতি। গণবণ্টন ব্যবস্থার সুযোগ পেতে হলে রেশন কার্ডের প্রয়োজন, আর রেশন কার্ডের জন্য গত আঠারো বছর ধরে লড়াই করছেন মরিয়া আবদুল লতিফ। চার সন্তানের রেশন কার্ডের জন্য প্রথম বার আবেদন করেছিলেন ১৯৯৬ সালে। আবেদনের সাড়া মেলেনি, রেশন কার্ড-এর জন্য অফিসে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেও লাভ হয়নি। পুনরায় আবেদন করেন ২০০৬-এ। এ বার এক স্থানীয় নেতার সাহায্য নিয়ে রেশন কার্ড অফিসের বড়বাবুর সঙ্গে দেখা হলেও, হাতে রইল শূন্য --- নিষ্ফলা কপাল। ২০১০ সালে আবার দরখাস্ত করলেন, আবার শুরু হল, ‘কাল আসুন’, শেষ হল না রেশন কার্ড না পাওয়ার দীর্ঘ লড়াই। এর মধ্যে ছেলেরা বড় হয়েছে, খরচের বোঝা দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ রেশন কার্ডের দেখা নেই। সম্ভাব্য সব দরজায় কড়া নেড়েও যখন কোনও সুরাহা হল না, এর মধ্যেই পুওরেস্ট এরিয়া সিভিল সোসাইটি সাপোর্ট প্রোগ্রাম-এর আওতায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র তথ্য অধিকার নিয়ে সচেতনতা শিবিরের লতিফ মিঞা জানতে পারলেন : সরকারের কাছ থেকে ১০ টাকার কোর্ট ফিস-এর বিনিময়ে তাঁর আবেদনপত্রের কী হাল হয়েছে জানতে চাইতে পারেন। এল ২০১৩ সন। মনে হাজারও শঙ্কা ছিল। গ্রামের ছেলে আবদুল হালিম ভিন রাজ্যের দিনমজুর, আরটিআই-এর মাধ্যমে কী ভাবে রেশন কার্ড পেয়েছিলেন সে গল্প শোনান। কিছুটা আশা জাগল তথ্য অধিকার আইনের উপর। কপাল ঠুকে আরটিআই-এ আবেদন করে জানতে চাইলেন মাত্র তিনটি সহজ ও নিরীহ প্রশ্ন। ম্যাজিকের মতো কাজ হল, আবেদন করার কয়েক দিনের মধ্যে রাজকর্মচারী হাজির প্রজার দরবারে, ‘আমাদের কয়েক দিন মাত্র সময় দিন’। এ বার তাঁরা কথা রেখেছেন ; দিন কয়েকের মধ্যে চার সন্তানের রেশন কার্ড হাতে পেলেন।

সূত্র : এই সময়, ৩ মার্চ ২০১৫

দীর্ঘ আন্দোলনের ফল তথ্য অধিকার আইন

লতিফ মিঞা তো রেশন কার্ড পেলেন। কিন্তু চমকের আরও বাকি ছিল। লতিফ ভাইয়ের আরটিআই-এ কাজ হতে দেখে পাড়ার আরও ৫-৭ পরিবারও রেশন কার্ডের জন্য আবেদনপত্র জমা দিলে এবং মাস ঘুরতে না ঘুরতেই ১৯টি নতুন রেশন কার্ড হাতে এসে গেল। তাঁদের। তাঁরা বুঝলেন, কত বড় অস্ত্র আছে তাঁদের হাতে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই যদি এমন হতো !

সরকারি পরিষেবা পেতে আবেদনকারীকে প্রতি দিন শুনতে হয় ‘কাল আসুন’। এই ‘কাল আসা’টা অনন্ত কালে পরিণত হয় সংশ্লিষ্ট নাগরিকের ভৌগোলিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের উপর। কর্তব্যে ফাঁকি দেওয়াটা এক প্রকার শোষণ, কখনও বা খুবই তীব্র, বিশেষত সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে সরকারি কর্তা বারংবার দরখাস্তকারীকে বলতে থাকেন ‘কাল আসুন’৷

তথ্য অধিকার আইনের জোরটা এখানেই--- পিছিয়ে পড়া জেলা, ব্লক, গ্রাম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এক সাধারণ নাগরিকের সক্ষমতার সিঁড়ি। যেমন ভাবে লতিফ মিঞা পেরেছেন, এই উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ ব্লকের সাবিত্রী রায় বর্মন, ১০০ দিনের কাজ বহু বার চেয়েও যখন কাজ পাননি, তখন আরটিআই -এর শরণাপন্ন হন। ২০০৬ সালে মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প শুরু হলেও, একটা ক্ষুদ্র অংশই এই প্রকল্পের সুযোগ নিতে পেরেছিল, তার মধ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণ নামমাত্র। কাজ চেয়ে এক দল মহিলা পঞ্চায়েতে আবেদন করেন, বছর কেটে গেলেও পঞ্চায়েতের কোনও হেলদোল লক্ষ্য করা যায়নি। অগত্যা প্রত্যয় মহিলা গোষ্ঠীর মহিলারা তথ্য অধিকার আইন বলে আবেদন করে বসলেন ; তাঁরা জানতে চাইলেন : ১০০ দিনের কাজ কবে তাঁরা পাবেন। আরটিআই আবেদনের ফলে অনেকেই কাজ পেয়েছিলেন। গণতন্ত্রকে প্রকৃত অংশগ্রহণমুখী করতে, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আনতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যে দীর্ঘ আন্দোলন চলেছিল, ২০০৫ সালে তার সুফল হিসাবে উঠে আসে তথ্য অধিকার আইন। এই আইনের মধ্যেই ছোট ও বড় দুর্নীতি দমনের বীজ বপন করা হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির অদ্ভুত নীরবতা।

সূত্র : এই সময়, ৩ মার্চ ২০১৫

পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে শুধু আইনের কাঠামো

পশ্চিমবঙ্গে তথ্য অধিকার আইন অযত্নে ফাল্গুনে ঝরে যাওয়া গাছের রূপ নিয়েছে, আইনের কাঠামোটা শুধু দাঁড়িয়ে আছে। এ রাজ্যে তথ্য অধিকার আইন দানা বাঁধতে পারেনি বহুবিধ কারণে। প্রথমত, এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনীহার কারণে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোই গড়ে তুলতে পারেনি; সরকারি অফিসে জন তথ্য আধিকারিককে খুঁজে পেতেই আপনার বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে। তথ্যের অধিকার আইন অনুসারে কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে মুখ্য তথ্য কমিশনার সহ অন্তত দশ জন কমিশনার নিয়ে তথ্য কমিশন গঠন করার কথা। বিগত ছ’ বছরে, বেশির ভাগ সময়ই এক জন মুখ্য তথ্য কমিশনার দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে, এক জন মুখ্য তথ্য কমিশনার ও দু’জন তথ্য কমিশনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

দেশ জুড়ে তথ্য অধিকারের নানান সাফল্য, পশ্চিমবঙ্গেও আবেদনপত্রের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তথ্য না দেওয়ার সংখ্যাও। তথ্য না পেয়ে, আপিল ও অভিযোগ করলে, কমিশন সংশ্লিষ্ট তথ্য আধিকারিকের কাছে তথ্য না দেওয়ার জন্য কারণ জানতে নির্দেশ দিচ্ছেন, অথচ বেশির ভাগ তথ্য আধিকারিক নানান ছুতোয় তা পালন করছেন না। নির্দেশ লঙ্ঘন করা তথ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না কমিশনের অবহেলার জন্য। এই অধিকার সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে রাজ্য সরকার ও তথ্য কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। রাজ্য সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার সুপারিশ করতে পারে কমিশন। কিন্তু কমিশন আশ্চর্যজনক ভাবে নীরব। অন্য দিকে, পূর্বতন ও বর্তমান শাসকগোষ্ঠী স্বীয় সরকারের সাফল্যের খতিয়ান জানানোর জন্য বিশেষ করে নির্বাচনের আগে, অগণিত টাকা খরচ করেছে। অথচ, আম নাগরিকের জানার অধিকার আছে, সেটা জানাতে কানাকড়িও খরচ করেনি। গোপনীয়তার বেড়াজাল, সরকারি উদাসীনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ত্র্যহস্পর্শে এই আইনটির সম্ভাবনা এ রাজ্যে নষ্ট হতে চলেছে। সরকারি পরিষেবা পেতে ‘কাল আসুন’-এর মৌরসিপাট্টা ভাঙতে, এ আইনকে রাজ্যে সচল করতে প্রয়োজন গণ সক্রিয়তার। আশার কথা, সিভিল সোসাইটি সাপোর্ট প্রোগামের আওতায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও শ্রীপুর মহিলা ও খাদি উন্নয়ন কেন্দ্র প্রভৃতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি নিরন্তর প্রচার অভিযান চালাচ্ছে। এর ফলও হাতে-নাতে পাওয়া যাচ্ছে ; আবদুল লতিফের রেশন কার্ড পাওয়া হোক অথবা অলকা বর্মন বা সাবিত্রী রায় বর্মনের আরটিআই আবেদনের ফলে ১০০ দিনের কাজ নিশ্চিত হওয়া সাফল্যের কিছু নমুনা। তথ্য খুলে দেবে গণতন্ত্রের নতুন দরজা; তথ্য জানতে পারাটা শাসিতদের কাছে এক প্রকার সক্ষমতা, যা থেকে তাঁরা নিজেদের অধিকারগুলোকে সুনিশ্চিত করতে পারেন।

সূত্র : এই সময়, ৩ মার্চ ২০১৫

2.96363636364
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top