ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

ঘুটিয়ারি শরিফ

এক সাধুর জন্যই এই জায়গার খ্যাতি, যে সাধু গভীর তপস্যা করে খরায় জ্বলেপুড়ে যাওয়া গ্রামে বৃষ্টি নামিয়েছিলেন। স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন গ্রামবাসীর। কিন্তু বিনিময়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। সে দিন থেকেই পীর গাজি মুবারক আলি সাহেব ঘুটিয়ারি শরিফকে এনে দিয়েছেন তীর্থস্থানের তালিকায়।

শিয়ালদহ থেকে ক্যানিং লাইনে মাত্র ১ ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় ঘুটিয়ারি শরিফে। স্টেশন থেকে মাত্র ২ মিনিটের হাঁটা, পৌঁছে যাবে গাজি সাহেবের মাজারে।

গাজি সাহেবকে নিয়ে নানা কাহিনি ছড়িয়ে আছে। তিনি নাকি হিংস্র বাঘকে বশ করতেন। ১৭ শতকের কথা। তখন এই জায়গা ছিল সুন্দরবনের অংশ, গহীন জঙ্গলে ঢাকা। মাঝে মাঝে দু’ একটা গ্রাম। চাষাবাদ করে, বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতেন এ অঞ্চলের মানুষজন। তাঁদের সহায় ছিলেন গাজি সাহেব। এক বার কয়েক মাস ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। একেবারে দুর্ভিক্ষের অবস্থা। না খেতে পেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। গাজি সাহেব তপস্যায় বসলেন। কঠোর তপস্যা। বিস্মিত মানুষ দেখল, অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমেছে। কিন্তু গাজি সাহেব নিষ্প্রাণ। তখন থেকেই শুরু হল তাঁর মৃত্যু স্মরণ। প্রতি বছর গাজি সাহেবের মৃত্যুদিন ৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় পীরের মেলা। চলে এক মাস ধরে। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ৪-৫ লাখ লোক আসেন মেলায়। কত ফকির-দরবেশ-বাউল আসেন সেই মেলায়। সে এক মহামিলনের মেলা। মুসলিম-হিন্দুর মিলন মেলা।

গলিপথ দিয়ে পৌঁছে যেতে হয় মাজারে। চিনা মোজেকের ধবধবে সাদা ডোম। চারটি টাওয়ার মুসলিম মোটিফে সজ্জিত। গাজি সাহেবের কবরে চাদর চড়ানোর রীতি আছে। মাজারের পিছনে অনেকেই রঙিন কাপড় দিয়ে গ্রন্থি বেঁধে দিয়ে যান। কিছু দূরে গাজি সাহেবের পুকুর। মানুষের বিশ্বাস, গাজি সাহেবের দরগায় নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করলে, কোনও কিছু মানত করে গ্রন্থি বাঁধলে বা পুকুরে ডুব দিলে গাজি সাহেব তা পূরণ করেন।

হিন্দু-মুসলমানের মিলনস্থল ঘুটিয়ারি শরিফে গাজি সাহেবের দরগা।

2.75
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top