হোম / শিক্ষা / শিশুর অধিকার / সুরক্ষার অধিকার / প্রতিবন্ধকতা : প্রচলিত ধারণা ও বাস্তব
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

প্রতিবন্ধকতা : প্রচলিত ধারণা ও বাস্তব

শিশুদের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রচুর ভুল ধারণা রয়েছে আমাদের। তা-ই এখানে আলোচিত।

প্রচলিত ধারণা : শারীরিক প্রতিবন্ধকতা একটা অভিশাপ। পঙ্গু শিশুর কোনও ভবিষ্যত নেই, এ ধরনের শিশুরা পরিবারের বোঝা। অর্থনৈতিক ভাবে তারা অক্ষম তাই তাদের লেখাপড়া শেখার কোনও দরকার নেই। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা কোনও দিন সেরেও ওঠে না।

বাস্তব : শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে অতীতের কাজের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা এক ধরনের বিকৃতি যা মায়ের গর্ভে শিশু থাকার সময় অযত্নের কারণে হতে পারে, বা বংশগত কারণেও এই বিকলাঙ্গতা আসতে পারে। প্রয়োজনীয় সময়ে ডাক্তারি সাহায্যের অপ্রতুলতা, ওষুধপত্রের অভাব, দুর্ঘটনা বা আঘাতজনিত কারণেও মায়ের গর্ভে থাকাকালীন শিশু বিকলাঙ্গ হয়।

শারীরিক ও মানসিক ভাবে পঙ্গু ব্যক্তি সব সময়ের জন্য দয়া ও করুণার পাত্র হয়। আমরা ভুলে যাই যে পঙ্গু বিকলাঙ্গ মানুষের করুণার চাইতে বেশি দরকার অধিকার ও সহমর্মিতার।

প্রতিবন্ধকতাকে আমাদের সমাজে কলঙ্কস্বরূপ দেখা হয়। একটি পরিবারে মানসিক ভাবে অসুস্থ কেউ থাকলে সেই পরিবারকে পরিত্যাগ করা হয়, এবং তাকে সমাজে হেয় জ্ঞান করা হয় । শিশুর উন্নতির জন্য সব রকম অবস্থাতেই প্রত্যেকটি শিশুর শিক্ষার প্রয়োজন। সেই শিশু যদি প্রতিবন্ধীও হয় তবুও এটা সত্য। কারণ এর দ্বারাই শিশুর সার্বিক বিকাশ সম্ভব।

প্রতিবন্ধী শিশুর বিশেষ যত্নের ও দেখাশোনার প্রয়োজন। যদি তারা সঠিক সুযোগ পায় তবে তারাও জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারে। প্রতিবন্ধকতা তখনই জীবনে দুঃখ বয়ে আনে যদি প্রতিবন্ধী শিশুর প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে আমরা ব্যর্থ হই।

প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে যে যে বাধার শিকার হয়

  • প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য বিশেষ স্কুলের অভাব।
  • প্রতিবন্ধী শিশুরা ধীরে শেখে, কিন্তু স্কুল সে জন্য বিশেষ শিক্ষক নিয়োগ করে না, যারা ওই শিশুদের বিশেষভাবে দেখাশোনা করতে পারে।
  • সহপাঠীদের অমানবিক আচরণ। শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রতিবন্ধী শিশুরা সবসময় ব্যঙ্গবিদ্রুপের শিকার হয়, তারা ধীরে শেখে বলে বা তাদের শারীরিক বিকৃতি রয়েছে বলে।
  • স্কুলগুলিতে শারীরিক ভাবে অক্ষমদের উপযোগী পরিকাঠামো থাকে না। রাম্প, বিশেষ ধরনের চেয়ার বা তাদের উপযোগী শৌচাগারও তারা পায় না।

সঠিক শিক্ষা পদ্ধতির সাহায্যে বিকলাঙ্গ শিশুদের এমন কিছু পদ্ধতি শেখানো সম্ভব, যা তাদের মর্যাদার সঙ্গে ভদ্র জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে।

আরও বলা যেতে পারে যদি খুব তাড়াতাড়ি অসুখ ধরা পড়ে, অধিকাংশ প্রতিবন্ধকতাই সেরে ওঠে বা দূরারোগ্যতাকে এড়াতে পারে। মানসিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।

3.07692307692
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top