হোম / শক্তি / নানা খবর / বিশ্ব উষ্ণায়নে বসত বদলাচ্ছে নদী -সমুদ্রের মত্স্যকুল
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বিশ্ব উষ্ণায়নে বসত বদলাচ্ছে নদী -সমুদ্রের মত্স্যকুল

মোহনা ছাড়িয়ে তা ঢুকে পড়ছে নদী পথের ভেতরের বেশ খানিকটা এলাকায়৷ নোনা জলের পথ বেয়েই এই নদীতে এখন বাড়ছে পারসে , ভাঙন , ভেটকি , পায়রা চাঁদার মতো মাছগুলি৷ যেগুলি পরিচিত মিঠে -নোনা জলের মাছ হিসাবেই৷ কিন্ত্ত শুধু মাছই নয় , জলে লবণের পরিমাণ বাড়ায় বদলে যাচ্ছে জলের বাস্ত্ততন্ত্রও৷ বদলে যাচ্ছে খাদ্য শৃঙ্খলও৷ ফলে ওই এলাকায় থাকে যে সব মাছ , তারাও খুঁজছে নতুন বসত৷ মত্স্য বিজ্ঞানীরদের মতে , পরিবেশগত কারণে মাছেদের বসতের ক্ষেত্রেও ঘটে চলেছে পরিবর্তন৷

মোহনা এলাকার মাছগুলি এখন মিলছে নদীতে৷ আর পুঁটি , চ্যালা , ট্যাংরা , বক , বেলের মতো মাছগুলি এখন ভিড় জমাচ্ছে উত্তরে৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চের সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফিসারিজ এডুকেশনের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট বি কে মহাপাত্র জানান , গঙ্গার জলের উষ্ণতা , জলের চরিত্র্য অনুযায়ী , একাধিক ধরনের বাস্ত্ততন্ত্র রয়েছে৷ যেমন হরিদ্বারের কাছে জল বেশি ঠান্ডা হওয়ায় সেখানে পুঁটি , চ্যালা , বক , ট্যাংরার মতো মাছগুলির দেখা মিলত না৷ কিন্ত্ত সময়ের সঙ্গে সেই হিসেব বদলেছে৷ সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তরফে একটি গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে , ১৯৭০ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে হরিদ্বারে গঙ্গার জলের ন্যুনতম যে তাপমাত্রা ছিল , ১৯৮৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ওই এলাকায় গঙ্গার জলের ন্যুনতম তাপমাত্রা বেড়েছে ১ .৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ আর জলের সেই তাপমাত্রা বাড়ার কারণেই এখন সেখানেও ভালো সংখ্যায় দেখা মিলছে এই পুঁটি , চ্যালার মতো মাছগুলির৷

এখন গঙ্গায় মোহনার অনেকটা ভেতরেও লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এখানে পারসে , ভাঙন , ভেটকির মতো মাছগুলির আমদানি হচ্ছে বটে , কিন্ত্ত একই কারণে এই এলাকায় গঙ্গায় বাড়ছে লায়ন ফিস , জেলি ফিস৷ যেগুলিও এই এলাকার মাছগুলিকে খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছে৷ ফলে বাড়ছে তাদের সঙ্কটও৷ লড়াই করে বাঁচার স্বার্থেই হয় তারা পাড়ি দিচ্ছে নতুন কোনও এলাকায় , না -হয় অভিযোজন ঘটিয়েই টিকে থাকতে হচ্ছে তাদের৷

গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এ সুন্দরবন এলাকায় মাছেদের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মত্স্য বিশ্ববিদ্যালয়ও৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চের আর্থিক সহযোগিতাতেই চলছে ওই গবেষণাটি৷ এই প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার বি কে চাঁদ জানান , গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে সুন্দরবনের বহু পুকুরেও ঢুকে পড়ছে নোনা জল৷ ফলে জলের লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নোনা জলের মাছগুলির চাষ বাড়লেও , কমছে মিঠে জলের মাছ চাষ৷ এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে ও কোন কোন মাছগুলির চাষ করা যায় , তা নিয়েই সাগর ও বাসন্তী ব্লকের মোট ১৬টি ডেমনস্ট্রেশন পুকুরে গবেষণা চালানো হচ্ছে৷

শুধুমাত্র নদীই নয় , সামুদ্রিক মাছের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটছে বসতের৷ যেমন , দিঘা , শঙ্করপুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল এলাকাতে এখন মিলছে ‘আয়লা ’ নামে একটি মাছ৷ কলকাতার বাজারেও বিক্রি হচ্ছে সেটি৷ কেন আয়লা ? গড়িয়া বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান , স্থানীয় মানুষরাই এই নামটি দিয়েছেন৷ কারণ আয়লার পর থেকেই নাকি এখানে দেখা মিলছে এই মাছটির৷

মত্স্য বিজ্ঞানীরা অবশ্য জানাচ্ছেন , এটি আসলে ইন্ডিয়ান ম্যাকারেল৷ যা পাওয়া যেত পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের রাজ্যগুলিতে৷ কিন্ত্ত সেই এলাকায় জলের উষ্ণতা এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলি ক্রমশ পূর্বের বঙ্গোপসাগর উপকূলের অন্ধ্রপ্রদেশ , ওডিশা হয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গেও চলে আসছে৷ একইরকম ভাবে এই এলাকায় ওয়েল সার্ডিন , ইয়েলো ফিন টুনার মতো মাছগুলিও মিলছে৷ রন্তানির ভালো বাজার রয়েছে টুনার৷ যা এতদিন প্রধানত লাক্ষাদ্বীপ সহ পশ্চিম উপকূলেই মিলত৷ এখন মিলছে পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলিতেও৷ এ রাজ্যে এতদিন এক প্রকারের থ্রেডফিন ব্রিম মাছের দেখা মিলত৷ এখন ওই প্রজাতিটিরই আরও পাঁচ প্রকারের দেখা মিলছে৷

গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাব পড়ছে উত্তর পূর্ব ভারতের মাছচাষেও৷ বি কে মহাপাত্র জানান , আগে উত্তর পূর্ব ভারতে ঠান্ডার জন্য রুই বা কাতলা মাছের ব্রিডিংই হতো না৷ কিন্ত্ত এখন ওই এলাকাগুলিও উষ্ণ হওয়ায় সেখানে রুই বা কাতলার ব্রিডিং হচ্ছে৷ কিন্ত্ত সেই ঠান্ডা এলাকায় আগে যে ট্রাউট , বিশেষত স্নো ট্রাউট বেশি পরিমাণে মিলত , সঙ্কট বেড়েছে তাদের৷

তবে , মাছেদের ক্ষেত্রে উষ্ণায়নের ইতিবাচক প্রভাবও লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা৷ কী সেই প্রভাব ? সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফিসারিজ এডুকেশনের বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন , আগে মে -জুন মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ছিল মাছেদের ব্রিডিং সিজন৷ এখন গরম বাড়ার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ব্রিডিং হচ্ছে মাছেদের৷ ফলে বাড়ছে তাদের উত্পাদনও৷ কিন্ত্ত সমস্যা হল , তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বহু এলাকাতেই পুকুর , খাল , বিল , নদী শুকিয়ে যাচ্ছে৷ জল থাকলেও কমছে তার স্তর৷ তাই ব্রিডিং -এর ফলে মাছের সংখ্যা বাড়লেও সেগুলি বড় হবে কোথায় ? এই প্রশ্নটি নিয়েও চিন্তিত বিজ্ঞানীরা৷

মাছ : পারশে , ভাঙন , ভেটকি , পায়রা চাঁদাআগে মিলত : মূলত বাংলার মোহনা এলাকায়এখন মিলছে : উপকূল থেকে অনেক ভিতরে নদীতেপুঁটি , চ্যালা , বক , ট্যাংরাআগে মিলত : দক্ষিণে , উষ্ণ জলের এলাকায়এখন মিলছে : উত্তর ভারতে , ঠান্ডা জলেওওয়েল সার্ডিন , ইয়েলো ফিন টুনা , ইন্ডিয়ান ম্যাকারেলআগে মিলত : আরবসাগরে (পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলে )এখন মিলছে : বঙ্গোপসাগরে (অন্ধ্র , ওডিশা , বঙ্গের উপকূলে )মভপাপশ্চিমের মাছ পাড়ি দিচ্ছে পূর্বে, দক্ষিণের মাছ ডিম দিচ্ছে উত্তরে৷

সুত্র: এই সময়

3.11111111111
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top