হোম / স্বাস্থ্য / নানা খবর / যক্ষ্মা ভেদাভেদই করছে না ধনী-গরিবের মধ্যে
ভাগ করে নিন

যক্ষ্মা ভেদাভেদই করছে না ধনী-গরিবের মধ্যে

‘আমার যক্ষ্মা হয়েছে ! অসম্ভব ? আপনাদের পরীক্ষায় কোনও ত্রুটি রয়েছে নিশ্চয়ই৷ শাকসব্জি, ঘি -দুধ, মাছ -মাংস, সবই খাই৷ তা হলে ?’ প্রশ্নটা সেক্টর ফাইভের এক সফটওয়্যার ডেভেলপার তরুণীর৷ ফুসফুস বিশেষজ্ঞের চেম্বারে ডাক্তারকে এই প্রশ্নটাই ছুড়ে দিলেন তিনি৷

‘আমার যক্ষ্মা হয়েছে! অসম্ভব? আপনাদের পরীক্ষায় কোনও ত্রুটি রয়েছে নিশ্চয়ই৷ শাকসব্জি, ঘি -দুধ, মাছ -মাংস, সবই খাই৷ তা হলে?’ প্রশ্নটা সেক্টর ফাইভের এক সফটওয়্যার ডেভেলপার তরুণীর৷ ফুসফুস বিশেষজ্ঞের চেম্বারে ডাক্তারকে এই প্রশ্নটাই ছুড়ে দিলেন তিনি৷

কেন? তরুণীর হাতে তখন সদ্য পাওয়া থুথু পরীক্ষার রিপোর্ট৷ সেই রিপোর্ট বলছে , সচ্ছল ঘরের মেয়েটির যক্ষ্মা হয়েছে৷

সচ্ছলদের ঘরেও এটাই এখন ঘটনা৷ ঠিক যেমনটা হয়েছিল বলে সম্প্রতি কবুল করেছেন অমিতাভ বচ্চন ! ঠিক যেমন ভাবে যক্ষ্মায় ভুগেছেন জওহরলাল নেহরুর স্ত্রী কমলা, মহম্মদ আলি জিন্না, গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজম, পপস্টার টিনা টার্নার বা বিটলস-সদস্য রিঙ্গো স্টার৷ এঁদের কেউই কিন্তু নেহাত গরিবগুর্বো ছিলেন না৷ এ রোগই এখন হানা দিচ্ছে কলকাতাবাসীর ঘরে৷ শহরের ডাক্তাররাও বলছেন, মাল্টি -ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবি-র (এমডিআর-টিবি ) জীবাণু এখন আর গরিব-বিত্তবানে বাছবিচার করছে না৷ এমনিতেই এমডিআর-টিবিতে ভোগা রোগীর সংখ্যা সারা বিশ্বে সব চেয়ে বেশি ভারতে৷ ২০১৩ -য় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু ) রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, এ দেশে ৬৪,০০০ মানুষ আক্রান্ত ওই রোগে৷ সচ্ছলদের মধ্যে সবাই অবশ্য এমডিআর টিবি -তে ভুগছেন না৷

ডাক্তাররা বলছেন, বিত্তবানদের যক্ষ্মা হয় না, এই ভ্রান্ত ধারণায় বিপদ বাড়ছে৷ সেই বিপদ আরও বাড়াচ্ছে আধুনিক কর্পোরেট অফিসে বাতানুকূল যন্ত্রের রমরমা৷ পাশাপাশি, কারও যদি ডায়াবিটিস থাকে, তা হলে এই রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ একঘরে গাদাগাদির ফলেও ছড়াতে পারে ছোঁয়াচে এই রোগ৷

শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অজয় সরকারের দাবি, প্রতি সপ্তাহে তাঁর চেম্বারে কমপক্ষে ৪ জন যক্ষ্মা আক্রান্ত হাজির হয়েছেন গত তিন মাসে৷ এঁদের অর্ধেকই আবার এমডিআর-টিবিতে আক্রান্ত৷ তাঁর কথায়, ‘আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকলেই সচ্ছল পরিবারের৷ কেউ আবার যথেষ্ট ধনী পরিবারের৷ কেউ অপুষ্টিতে ভোগেননি কখনও৷ ফলে রোগ কখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা বুঝতেও বেশ কিছুটা সময় লেগেছে৷

একই বক্তব্য দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ফুসফুস বিভাগের প্রধান রঞ্জন দাসের৷ তিনি জানান, ‘আমার রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই সচ্ছল পরিবারের৷ ’ ফুলবাগানের এক বেসরকারি হাসপাতালের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ অশোক সেনগুপ্তের মতে, প্রত্যেক মাসে কমপক্ষে ১৬ জন ফুসফুসের যক্ষ্মার আশঙ্কা নিয়ে রেফার হয়ে আসে৷ এর মধ্যে ৮০%ই যক্ষ্মা আক্রান্ত বলে প্রমাণিত হন৷ এবং তাঁদের সকলেই সচ্ছল পরিবারের সদস্য৷

কেন এই অবস্থা? ভারতে যক্ষ্মা গবেষণায় পথিকৃৎ যে প্রতিষ্ঠান, চেন্নাইয়ের সেই টিউবারকিউলোসিস রিসার্চ সেন্টারের অধিকর্তা সৌম্য স্বামীনাথন বলছেন, ‘আধুনিক জীবনে বাড়িতে বাতানুকূল যন্ত্র এবং বিভিন্ন অফিসে কেন্দ্রীয় ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বাড়ছে, তত মধ্যবিত্তের মধ্যে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে৷’ সচ্ছলদের বিপদ আরও বাড়িয়েছে কর্পোরেট হাসপাতাল এবং বেসরকারি চিকিত্সকদের একাংশের অসহযোগিতা৷ কেন্দ্রীয় সরকার যক্ষ্মাকে বাধ্যতামূলক ভাবে নথিভুক্তযোগ্য ঘোষণা করা সত্ত্বেও, বছরের পর বছর বহু হাসপাতাল এবং প্রাইভেট ডাক্তার স্বাস্থ্য দফতরকে কোনও তথ্য দিচ্ছে না৷ স্বাস্থ্য দফতরের যক্ষ্মা বিভাগের কর্তারা রাজ্যের চিকিত্সক সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং বেসরকারি হাসপাতালের কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন৷ এত কিছুর পর কলকাতার রেজিস্টার্ড সাড়ে ৪ হাজার যক্ষ্মা চিকিত্সকের থেকে বিগত এক বছরে মাত্র ১,২০০ যক্ষ্মা রোগীর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে৷

সূত্র : ঝিলম করঞ্জাই, এই সময়, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

2.94444444444
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top