হোম / প্রভাবসম্পন্ন খবর / ‘গার্ল হিরো’ আনোয়ারা
ভাগ করে নিন

‘গার্ল হিরো’ আনোয়ারা

 

১৮ বছরের আনোয়ারাকে দেখে প্রথমেই যে উপলব্ধি হয় তা হল, ওর চোখ দুটি আশ্চর্য রকম উজ্জ্বল। চোখের দিকে তাকালে অন্য‌ রকম অনুভূতি হয়।

ধাগাগিয়া সোশাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অফিসঘরের বাইরে একটি টুলের উপর বসেছিল সে। বিকেলের পড়ন্ত রোদ তার মুখ স্পর্শ করে যাচ্ছে। আনোয়ারা বলে চলেছে তার নিজস্ব দুনিয়ার কথা। ‘‘এই জায়গাটা কত সুন্দর বলুন!’’ তার চোখ চলে যায় এক পাশের সবুজ বনানীর দিকে। আর এক দিকে বিস্তৃত জলাশয়। সুন্দরবনের এই রহস্য‌ময় আবিলতা তাকে ছুঁয়ে যায়। এই সুন্দরকে নিরাপত্তা দেওয়াই তার এখনকার কাজ।

১২ বছর বয়সে তার জীবনটা কিন্তু অন্য‌ রকম ছিল। তখন সে নিজেই পাচার হয়ে চিরকালের জন্য‌ অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারত। তার বাসস্থান ছোট আসকারা গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গে শিশু পাচারের অন্য‌তম কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সে নিজেও এক বার এই নরকের আস্বাদ পেয়েছে। সেখান থেকে সে শুধু উঠে এসেছে তা-ই নয়, নিজের জীবনকে একেবারে নতুন করে গড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

নারীশিশুকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য‌ তার লড়াই সর্বোচ্চ মর্যাদা পেয়েছ নোবেল পুরস্কার জয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের ফউন্ডেশনের কাছ থেকে। মালালা ফান্ড ৩০ দিন ধরে ‘গার্ল হিরো’ বা মহিলা বীরাঙ্গনাদের কীর্তি উদযাপন করছে (১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর)। এদের ‘দৃষ্টান্তমূলক সাহস ও নেতৃত্বদানকে’ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

মালালা ফান্ড মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর লক্ষ্য‌ে সহায়তা করে। শিক্ষার অধিকার সম্পর্কে তাদের বক্তব্য‌কেও গোটা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে। আনোয়ারাকে সম্প্রতি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি জানিয়ে বলা হয়েছে সে ‘শিশুপাচার, বাল্য‌বিবাহের সামাজিক ব্য‌াধি রোখার ক্ষেত্রে খুবই শক্তিশালী।’ সেই কারণেই আনোয়ারা সত্য‌িকারের ‘গার্ল হিরো’।

Back to top