হোম / প্রভাবসম্পন্ন খবর / সাত সকালেই হাজির ফরিদারা
ভাগ করে নিন

সাত সকালেই হাজির ফরিদারা

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভোর থেকেই ছুটে আসে মানুষজন। আশ্রম চত্বরে ভিড় জমে যায় সাত সকালেই

ফরিদা বিবি। কোঁচকানো চামড়া আর শুকিয়ে যাওয়া শরীর দেখে বয়সটা ঠিক আন্দাজ করা যায় না। তবে, কোলে ২ বছরের কন্যাসন্তানকে দেখে বয়সের মোটামুটি একটি হিসেব কষা যায়। বাড়ি, সন্দেশখালির আগরহাটি থেকে বেশ দূরে, নারাবন এলাকায়। ক’দিন ধরে মেয়েটার সর্দি হয়েছে, সঙ্গে জ্বর আর কাশি। পায়খানায়ও কষে গেছে বাচ্চাটার। ফরিদা বিবির কথায়, ‘একটাই মেয়ে। প্রায়শই এ রকম সর্দিজ্বরে ভোগে। মেয়েটাকে নিয়ে বাবার কোনও হেলদোল নেই। সব সময় কেমন যেন ‘অবচ্ছেদ্দা’।’

পড়শি অহিদা বিবির কাছে ফরিদা শুনেছিলেন আগরহাটি শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমে একটি হাসপাতাল হয়েছে। সেখানে প্রতি মাসের শেষ শনিবার কলকাতা থেকে বড় বড় ডাক্তারবাবুরা আসেন। চিকিৎসা করেন কার্যত বিনা পয়সায়। মাত্র দশ টাকা নাম লেখানোর খরচ। শনিবার দিনে ওষুধও মেলে বিনামূল্যে। পরের দিনই তো মাসের শেষ শনিবার। রোজিনার (ফরিদার মেয়ের নাম) বাবাকে কোনও মতে রাজি করিয়ে পরের দিন, রাত থাকতে ওঠে রান্নাবান্না সেরে চারটে নাগাদ রওনা দিলেন তিনি।

যাওয়াটাও কম ঝক্কির নয়। লঞ্চ করে নদী পেরিয়ে, তারপর ভ্যানে চড়ে তবে পৌঁছনো গেল আগরহাটি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে। সময় লাগল প্রায় ঘণ্টাতিনেকের বেশি । শীতটা সবে পড়তে শুরু করেছে। সূর্যের আলোর তেজ বাড়লেও এখনও কুয়াশায় অস্পষ্ট হয়ে রয়েছে চারপাশটা। ঠান্ডাও বেশ মালুম হচ্ছে। সে সব উপেক্ষা করে সাত সকালেই হাসপাতালের মাঠে ভিড় জমতে শুরু করেছে। কার্ড তৈরির জন্য লাইনও পড়ে গেছে। ফরিদা কার্ডের লাইনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে জানতে পারলেন, শুধু তিনি একা নন, তাঁর মতো শ্যামলী মণ্ডল, রেকসানা বিবি, আবদুল মজিদ গাজি অনেকই বহু দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন আগরহাটি শ্রীরামকৃষ্ণ মা সারদা স্বাস্থ্য সেবা পরিষদের হাসপাতালে।

Back to top