হোম / খবর / দুর্নীতি রুখতে এবার হাইটেক নজরদারি
ভাগ করে নিন

দুর্নীতি রুখতে এবার হাইটেক নজরদারি

একশো দিনের কাজে দুর্নীতি রুখতে অভিনব পদক্ষেপ মোদী সরকারের৷

কাজ না -করেই কেউ যাতে টাকা গায়েব করে দিতে না -পারে , তা সুনিশ্চিত করতে জিআইএস প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক৷ তার মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পে যে সব প্রকল্প রূপায়িত হবে , তা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে৷ ছবি , তথ্যপরিসংখ্যান এবং খরচের পরিমাণও জানা যাবে৷ আধারের মতো প্রতিটি কাজের ‘ইউনিক নম্বর ’ থাকবে৷ পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে বসে এক নিমেষে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কোন এলাকায় কী সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে , তা জানতে পারবেন নাগরিকরা৷ দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ -সহ প্রতিটি রাজ্যকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র৷

কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দন্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন , একশো দিনের কাজের প্রকল্প সবথেকে বেশি সাফল্যের মুখ দেখলেও ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে৷ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে , কাজ না -করেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে৷ কোথাও আবার কাজ মাঝপথে আটকে রয়েছে৷ এমনও দেখা গিয়েছে, খাতায় -কলমে যে কাজের জন্য টাকা খরচ হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে , বাস্তবে সেই কাজ করা হয়নি৷ তার বদলে অন্য কোনও প্রকল্পে টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে৷ এর ফলে কোটি কোটি টাকা জলে যাচ্ছে৷ মানুষের বদলে অনেক জায়গায় যন্ত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে৷ গ্রামে কর্মদিবস সৃষ্টির যে উদ্দেশ্য নিয়ে ‘মানরেগা ’ প্রকল্প চালু হয়েছে , সেটাই বাধাপ্রান্ত হচ্ছে৷ সেই দুর্নীতি ঠেকাতেই ‘জিও -মানরেগা ’ প্রকল্প চালু করেছেন মোদী সরকার৷ একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কোনও নির্দিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই তাকে জিও -মানরেগার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট সেই রাজ্যকে৷

মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে , একশো দিনের কাজের প্রকল্পে সারা দেশে প্রায় ৬৫ লক্ষ সরকারি সম্পত্তিকে ইতিমধ্যেই জিওট্যাগ -এর আওতায় আনা হয়েছে৷ ওয়েবসাইট সার্চ করে সেই সব সম্পত্তি চাক্ষুষ করতে পারছেন সবাই৷ সম্প্রতি রাজ্যকে পাঠানো কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের মানরেগা প্রকল্পের দায়িত্বপ্রান্ত যুগ্ম সচিব অপরাজিতা সারেঙ্গির সই করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে , একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যে সব কাজ হয়েছে , তার বিস্তারিত তথ্য আগামী ২১ মার্চের মধ্যে দিল্লিতে ই -মেল করে পাঠাতে হবে৷ চলতি বছরের ১ এপ্রিলের মধ্যে যে সব কাজ হয়েছে , সেগুলিকে বাধ্যতামূলক ভাবে জিওট্যাগ করতে হবে৷ কেন্দ্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী , একশো দিনের কাজের প্রকল্পে জিও -ট্যাগ দেওয়ার ব্যাপারে দেশের বাকি রাজ্যগুলির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ৷ গত ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে , তাতে একশো দিনের কাজে রাজ্যে যত সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে , তার মাত্র ১৯ শতাংশকে জিওট্যাগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে৷ সব মিলিয়ে মোট ৩ লক্ষ ২১ হাজারের কিছু বেশি সম্পত্তি জিও -মানরেগার আওতায় এসেছে৷ সে তুলনায় অন্ধপ্রদেশ , অরুণাচল প্রদেশ , বিহারের মতো রাজ্যও কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে৷ রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন , ‘সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারই একশো দিনের কাজের প্রকল্প সফল ভাবে রূপায়িত করেছে৷ সম্পদ ও শ্রমদিবস সৃষ্টিতেও নজির তৈরি করেছে৷ স্বচ্ছতার দিক থেকেও এই রাজ্য অনেকটা এগিয়ে৷ তাই জিওট্যাগ হল কী হল না , তা নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই৷ তার থেকে কেন্দ্রীয় সরকার যদি সময়ে টাকাটা দেয় , তা হলে আমাদের কাজের সুবিধা হয়৷ ’১০০ দিনের কাজে ‘জিওট্যাগ ’ মোদী সরকারের রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দাবি , ‘সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারই একশো দিনের কাজের প্রকল্প সফল ভাবে রূপায়িত করেছে৷ সম্পদ ও শ্রমদিবস সৃষ্টিতেও নজির তৈরি করেছে৷ স্বচ্ছতার দিক থেকেও এই রাজ্য অনেকটা এগিয়ে৷ তাই জিওট্যাগ হল কী হল না , তা নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই৷ তার থেকে কেন্দ্র যদি সময়ে টাকাটা দেয় , তা হলে আমাদের কাজের সুবিধা হয়৷ ’৷

সূত্র: এই সময়

Back to top